পাহাড়ে কি একলা চলবে হাত? ৩ আসন নিয়ে চরম দোলাচলে প্রদেশ কংগ্রেস!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে আগেই ‘একলা চলো’ নীতির কথা ঘোষণা করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। দিল্লির হাইকম্যান্ডও রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই এককভাবে লড়াইয়ের সবুজ সংকেত দিয়েছে। কিন্তু শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং—পাহাড়ের সমীকরণ নিয়ে এখনও কাটেনি ধোঁয়াশা। মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে দার্জিলিং জেলা কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর স্পষ্ট হয়ে গেল, পাহাড়ের ৩টি আসন নিয়ে চরম সংশয়ে রয়েছে হাত শিবির। জোট হবে নাকি একক লড়াই, তা নিয়ে এখন বল দিল্লির কোর্টে।
পুরনো সঙ্গীর হাত কি ছাড়ছে কংগ্রেস? লোকসভা নির্বাচনে অজয় এডওয়ার্ডের হামরো পার্টির (বর্তমান ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট) সঙ্গে জোট বেঁধে লড়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ের কংগ্রেস নেতৃত্ব নিজেদের শক্তি পরখ করতে চাইছে। দলের একাংশের মত, কোনও দলের ওপর ভরসা না করে একাই লড়াই করা উচিত। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক প্রকাশ জোশী জানিয়েছেন, “পাহাড় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় কর্মীদের আবেগ বুঝতে হবে। আমাদের লক্ষ্য ২৯৪টি আসনেই লড়াই করা।”
তৃণমূল ও বিজেপিকে কড়া টক্কর: দার্জিলিং জেলা কংগ্রেস সভাপতি সুবীন ভৌমিকের অভিযোগ, নির্বাচন এলেই বিজেপি পাহাড় নিয়ে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেয়। তিনি মনে করিয়ে দেন, পাহাড়ের উন্নয়ন এবং ডিজিএইচসি বা জিটিএ-র মতো স্বায়ত্তশাসন কেবলমাত্র কংগ্রেসের আমলেই সম্ভব হয়েছে। তাই পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের জন্য কংগ্রেসই একমাত্র বিকল্প। তবে জোট না করলে ভোট কাটাকাটির অঙ্কে তৃণমূল বা বিজেপি লাভবান হবে কি না, সেই আশঙ্কাই এখন ভাবাচ্ছে শীর্ষ নেতৃত্বকে।
হাইকম্যান্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত: প্রকাশ জোশী স্পষ্ট করেছেন যে, দুর্দিনেও যারা কংগ্রেসের ঝান্ডা ধরে রেখেছেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সেই পুরনো নেতাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাহাড়ের সমীকরণ মেলাতে বর্তমানে দিল্লির হাইকম্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই খোলসা হবে, পাহাড়ের পাহারা দিতে কংগ্রেস কোনো জোটসঙ্গী বেছে নেয় নাকি ‘একলা চলো’ নীতিতেই অনড় থাকে।