ডিপফেক নিয়ে রণংদেহি মোদী! এআই-এর অপব্যবহার রুখতে ভারতে আসছে নয়া ‘সেফটি ইনস্টিটিউট’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) নিয়ে বিশ্বজুড়ে জয়জয়কার চললেও, এর অন্ধকার দিকটি নিয়ে এবার কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশেষ করে ‘ডিপফেক’ ভিডিও এবং নারী ও শিশুদের ওপর এআই-এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রযুক্তি মানুষের ক্ষমতা বাড়াতে পারে, কিন্তু তার অপব্যবহার কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। নিরাপদ এআই নিশ্চিত করতে ভারতে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে ‘ইন্ডিয়াএআই সেফটি ইনস্টিটিউট’।

ডিপফেক ও নারী নিরাপত্তা: প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, বর্তমান সময়ে ডিপফেক ভিডিওর রমরমা এক ভয়াবহ সামাজিক ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে নারীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা কুরুচিকর সিন্থেটিক মিডিয়া এবং বয়স্কদের ওপর সাইবার হামলার ঘটনা বাড়ছে। এই বিপদ রুখতে ভারত সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এখন থেকে এআই-জেনারেটেড কন্টেন্টে বাধ্যতামূলক ‘ওয়াটারমার্কিং’ এবং ক্ষতিকারক কন্টেন্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলার নিয়ম জারি করা হয়েছে।

ইন্ডিয়াএআই সেফটি ইনস্টিটিউট: প্রযুক্তিকে শৃঙ্খলিত করতে এবং এর নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২০২৫ সালের শুরুতেই (জানুয়ারি) ‘ইন্ডিয়াএআই সেফটি ইনস্টিটিউট’ চালু করার কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি এআই সিস্টেমের ঝুঁকি মূল্যায়ন করবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, প্রযুক্তি মানুষের উপকারের জন্য হওয়া উচিত, ধ্বংসের জন্য নয়। ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষাও নিশ্চিত করছে সরকার।

বিশ্বজুড়ে একক নীতির ডাক: এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোদী বলেন, যেমন বিমান বা জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক নিয়ম রয়েছে, তেমনই এআই-এর জন্যও বিশ্বব্যাপী একটি সাধারণ চুক্তি প্রয়োজন। ভারত উদ্ভাবনের বিরোধী নয়, তবে উদ্ভাবনের সাথে মানবিক তদারকি এবং স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। অপরাধমূলক বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যাতে এআই ব্যবহার না হয়, তার জন্য বিশ্বের সমস্ত দেশকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পরিষ্কার— ‘সবার জন্য এআই’ হতে হবে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল।