অসমে কংগ্রেসের কফিনে শেষ পেরেক! প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতির বিজেপি যাত্রা নিয়ে তোলপাড় রাজনীতি

অসমে বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার ঠিক আগেই বড়সড় রাজনৈতিক ভূমিকম্প। জল্পনা ছিলই, তবে আজ তাতে সিলমোহর দিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। কংগ্রেসের দীর্ঘ তিন দশকের সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন অসমের প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভূপেন বোরাহ। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাবেন। এই ঘটনা অসমের রাজনৈতিক সমীকরণে কংগ্রেসকে কার্যত খাদের কিনারে ঠেলে দিল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

হাইকম্যান্ডের প্রতি ক্ষোভ ও পদত্যাগ: কয়েকদিন আগেই ভূপেন বোরাহ অভিযোগ করেছিলেন যে, কংগ্রেস হাইকম্যান্ড তাঁকে এবং তাঁর মতামতকে ক্রমাগত উপেক্ষা করছে। এই অভিমানেই তিনি দলের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপরই অসমের রাজনীতিতে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। রাহুল গান্ধী এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা গৌরব গগৈ ভূপেনকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন। তিন দশকের পুরনো সঙ্গীকে ধরে রাখতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব মরিয়া হয়ে উঠলেও শেষরক্ষা হলো না।

হিমন্ত-ভূপেন বৈঠক ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: মঙ্গলবার গুয়াহাটিতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন ভূপেন বোরাহ। সেই বৈঠকের পরেই মুখ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে দেন, ভূপেন বোরাহ তাঁর ইস্তফাপত্র প্রত্যাহার করবেন না। বরং আদর্শগত দিক থেকে বিজেপির সঙ্গী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হিমন্ত আরও দাবি করেন যে, শুধু ভূপেন নন, তাঁর সঙ্গে কংগ্রেসের একঝাঁক প্রথম সারির নেতাকর্মীও ২২ তারিখে পদ্ম শিবিরে যোগ দেবেন।

নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব: অসম নির্বাচনের আগে ভূপেন বোরাহর মতো অভিজ্ঞ নেতার দলবদল কংগ্রেসের কাছে বড় ধাক্কা। একদিকে যখন বিরোধী জোট গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন দলের সেনাপতির এই পদত্যাগ কর্মীদের মনোবল তলানিতে ঠেকিয়েছে। অন্যদিকে, হিমন্ত বিশ্বশর্মা এই দলবদলের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিলেন যে অসমে বিজেপির আধিপত্য আরও মজবুত হচ্ছে। এখন দেখার, ২২ ফেব্রুয়ারি ভূপেন বোরাহ ঠিক কতজন অনুগামীকে নিয়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান।