প্রতারিত দর্শকদের টাকা ফেরাতে কড়া পুলিশ! শতদ্রু দত্তর অন্তর্বর্তী জামিন নিয়ে বারাসত আদালতে টানাটানি

লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন আইনি লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে। যুবভারতী স্টেডিয়ামে অব্যবস্থা এবং দর্শকদের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে ৩৮ দিন জেল খাটার পর জামিন পেয়েছিলেন আয়োজক শতদ্রু দত্ত। কিন্তু সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হল না। এবার তাঁর অন্তর্বর্তী জামিন খারিজ করতে সরাসরি বারাসত জেলা আদালতের দ্বারস্থ হল বিধাননগর পুলিশ।

কেন জামিন বাতিলের আবেদন? মঙ্গলবার বারাসত আদালতে শুনানির সময় সরকারি আইনজীবী পুলিশের পক্ষ থেকে জামিন বাতিলের আর্জি জানান। পুলিশের যুক্তি হলো:

  • টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া: প্রতারিত দর্শকদের টিকিটের টাকা যাতে সুষ্ঠুভাবে ফিরিয়ে দেওয়া যায়, তার জন্য শতদ্রুকে হেফাজতে রাখা প্রয়োজন।

  • প্রভাব খাটানোর আশঙ্কা: পুলিশ মনে করছে, শতদ্রু বাইরে থাকলে তদন্তে প্রভাব খাটাতে পারেন এবং সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন।

মোবাইল ও সিম কার্ড নিয়ে টানাপড়েন: এদিন শতদ্রু দত্তর আইনজীবী তাঁর মক্কেলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং সিম কার্ড ফেরত দেওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু পুলিশ তাতে সাফ না জানিয়ে দেয়। সরকারি কৌঁসুলি আদালতকে জানান, ওই ফোন এবং সিম কার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে এবং সেগুলি ইতিমধ্যেই ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাই তদন্তের স্বার্থে এখনই তা ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: গত ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় এসেছিলেন লিওনেল মেসি। হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কেটেও ভিড় এবং অব্যবস্থার কারণে প্রিয় তারকাকে দেখতে পাননি বহু ফুটবল প্রেমী। এরপরই যুবভারতীতে ভাঙচুর ও বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই রাতেই বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল শতদ্রু দত্তকে। ৩৮ দিন জেল খাটার পর গত ১৯ জানুয়ারি তিনি অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছিলেন। এবার পুলিশের এই নতুন পদক্ষেপে ফের তাঁর হাজতবাসের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।