হুমায়ুন কি মমতা ও জামাতের ‘সেতু’? মুর্শিদাবাদে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে এবার বিদেশের যোগ খুঁজে পেলেন শুভেন্দু

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে। এবার এই প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে সরাসরি প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশকে টেনে আনলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, এই মসজিদ তৈরির জন্য সংগৃহীত অর্থের ৫০ শতাংশেরও বেশি এসেছে বাংলাদেশ থেকে। মঙ্গলবার হুমায়ুন কবীরকে সরাসরি নিশানা করে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, এই প্রকল্পের নেপথ্যে রয়েছে গভীর কোনো আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র।
শুভেন্দুর বিস্ফোরক অভিযোগ: বিরোধী দলনেতার দাবি, গত ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে হুমায়ুন কবীর টানা সাতদিন বাংলাদেশে কাটিয়েছিলেন। শুভেন্দু বলেন, “হুমায়ুন কবীর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যে টাকা তুলছেন, তার অর্ধেকের বেশি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জামাত এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করছেন এই হুমায়ুন। এটি শুধু ধর্মীয় বিষয় নয়, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন। হিন্দু এবং রাষ্ট্রবাদী মুসলিমদের এর বিরুদ্ধে সরব হওয়া উচিত।”
নতুন দল ও রাজনীতির সমীকরণ: তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর সম্প্রতি ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (JUP) নামে নতুন দল গড়েছেন। ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিশাল মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে গত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, হুমায়ুনকে সামনে রেখে তৃণমূল আসলে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার কৌশল করছে। অন্যদিকে, শাসকদলের পাল্টা অভিযোগ—হুমায়ুন আসলে বিজেপির হয়ে ভোট কাটাকাটির রাজনীতি করছেন।
জবাবে কী বলছেন হুমায়ুন? শুভেন্দুর এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পর হুমায়ুন কবীরের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সরাসরি জবাব আসেনি। তবে মসজিদ নির্মাণের সময় টাকার হিসেব নিয়ে তিনি বারবার দাবি করেছেন যে, সাধারণ মানুষের দানেই এই কাজ এগোচ্ছে। এমনকি কত টাকা জমা পড়ছে, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করেও দেখিয়েছেন তিনি। এখন দেখার, শুভেন্দুর এই ‘বাংলাদেশ কানেকশন’-এর তত্ত্বে হুমায়ুন বা রাজ্য সরকার কী প্রতিক্রিয়া দেয়।