সূর্যগ্রহণের অশুভ ছায়া থেকে খাবার বাঁচাবে একটি তুলসী পাতা! জেনে নিন এর পিছনের বৈজ্ঞানিক ও শাস্ত্রীয় রহস্য

আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬; বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ। মহাজাগতিক এই ঘটনাকে ঘিরে যেমন বিজ্ঞানীদের কৌতূহল থাকে, তেমনই সনাতন ধর্মে গ্রহণ নিয়ে রয়েছে একগুচ্ছ নিয়মকানুন। শাস্ত্র ও পরম্পরা অনুযায়ী, গ্রহণের সময় পরিবেশের শুদ্ধতা বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন। তাই যুগ যুগ ধরে রান্নাকরা খাবার বা পানীয় জলকে সুরক্ষিত রাখতে তুলসী পাতা ও গঙ্গাজলের সাহায্য নেওয়া হয়। কিন্তু এর পিছনে আসল কারণটা কী?
তুলসী পাতার মাহাত্ম্য: শাস্ত্র ও বিজ্ঞানের মেলবন্ধন শাস্ত্র এবং আয়ুর্বেদ—উভয় মতেই তুলসী একটি অত্যন্ত শক্তিশালী উপাদান। মনে করা হয়, গ্রহণের সময় বায়ুমণ্ডলে এমন কিছু ক্ষতিকারক তরঙ্গ ও জীবাণু সক্রিয় হয়ে ওঠে যা খাবারকে বিষাক্ত করতে পারে। রান্না করা খাবার, দুধ বা পানীয় জলের পাত্রে একটি করে তুলসী পাতা ফেলে রাখলে তা ক্ষতিকারক রশ্মিকে প্রতিরোধ করে। তুলসী পাতার উপস্থিতিতে খাদ্যের সাত্ত্বিক গুণ বজায় থাকে, ফলে গ্রহণ শেষেও সেই খাবার নিঃসঙ্কোচে গ্রহণ করা যায়।
গঙ্গাজল ও নেতিবাচক শক্তির বিনাশ: ভারতীয় সংস্কৃতিতে গঙ্গাজলকে চিরপবিত্র বলে গণ্য করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, গ্রহণের সময় বাড়ির প্রতিটি কোণে এবং ঠাকুরঘরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিলে অশুভ ও নেতিবাচক শক্তি দূর হয়। গঙ্গাজলের স্পর্শ শুধু ঘর নয়, মানুষের মনকেও শান্ত রাখে এবং ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে।
গ্রহণ পরবর্তী শুদ্ধিকরণ: গ্রহণ শেষ হওয়ার পর নিজেকে ও ঘরকে পুনরায় পবিত্র করার নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম শাস্ত্রে বর্ণিত আছে:
-
স্নান: স্নানের জলে কয়েক ফোঁটা গঙ্গাজল মিশিয়ে স্নান করলে শরীর ও মনের গ্লানি দূর হয়।
-
গৃহ মার্জনা: স্নানের পর সারা ঘরে এবং ঠাকুরঘরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
-
তুলসী পাতার নিষ্পত্তি: খাবার থেকে বের করা তুলসী পাতাগুলি যত্রতত্র না ফেলে কোনো পরিষ্কার জায়গা বা গাছের গোড়ায় রাখা উচিত।