“৬০টি জনসভা আর ব্রিগেডে মোদী”—রাজ্যে পদ্মঝড় তুলতে মরিয়া বঙ্গ বিজেপি

কলকাতা: ২০২৬-এর মহাযুদ্ধের দামামা কি বেজে গেল? সল্টলেকের দলীয় কার্যালয় থেকে রাজ্যজুড়ে বিশাল ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র ডাক দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল জমানাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ১ মার্চ থেকেই পথে নামছে গেরুয়া শিবির।

কেন এই পরিবর্তন যাত্রা? শমীক ভট্টাচার্যের অভিযোগ, ৩৪ বছরের বাম শাসনের হাত থেকে মুক্তি পেতে মানুষ তৃণমূলকে সুযোগ দিয়েছিল, কিন্তু গত দেড় দশকে রাজ্যে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে। দুর্নীতি এখন ‘প্রাতিষ্ঠানিক’ রূপ নিয়েছে। সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এই ৫০০০ কিলোমিটারের মেগা কর্মসূচি।

কর্মসূচির খুঁটিনাটি: এক নজরে বিজেপির এই পরিকল্পনা রীতিমতো নজরকাড়া। মোট ৯টি রুটে ভাগ হয়ে এই যাত্রা সারা রাজ্য প্রদক্ষিণ করবে:

  • ১ মার্চ: কোচবিহার দক্ষিণ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, গড়বেতা, রায়দিঘি ও কুলটি থেকে যাত্রার সূচনা।

  • ২ মার্চ: ইসলামপুর, সন্দেশখালি, হাসান ও আমতা থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় পর্যায়ের যাত্রা।

  • ৫ – ১০ মার্চ: রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভায় ঘুরবে সুসজ্জিত ট্যাবলো। হবে ৬০টি বড় ও ৩০০-র বেশি ছোট জনসভা। (বিশেষ দ্রষ্টব্য: দোলযাত্রা উপলক্ষে ৩ ও ৪ মার্চ কর্মসূচি স্থগিত থাকবে)

নেতৃত্বে কারা? পুরো বিষয়টির তদারকি করবেন নীলাঞ্জন রায় এবং সমন্বয়কারী হিসেবে থাকছেন রিতেশ তিওয়ারি। শমীক ভট্টাচার্য ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই যাত্রার উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত থাকতে পারেন একাধিক কেন্দ্রীয় হেভিওয়েট নেতা।

মাস্টারস্ট্রোক ব্রিগেডে! এই মেগা কর্মসূচির সমাপ্তি হতে চলেছে আরও রাজকীয়ভাবে। মার্চের শেষে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশাল জনসভার মাধ্যমে এই ‘পরিবর্তন যাত্রা’র ইতি টানা হবে। বিজেপির দাবি, এই যাত্রা বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মোড় ঘুরিয়ে দেবে।