টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ঈশান ২.০! বিতর্ক ঝেড়ে ফেলে পাক বোলারদের ঘুম ওড়ালেন পকেট ডায়নামো

ভারত-পাকিস্তান হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে প্রচারের সব আলো ছিল অভিষেক শর্মার ওপর। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সব হিসেব ওলটপালট করে দিলেন এমন একজন, যাঁর দলে থাকা নিয়ে একসময় ছিল হাজারো বিতর্ক। তিনি ঈশান কিষান। বিসিসিআই-এর কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়া, ঘরোয়া ক্রিকেট না খেলার অভিযোগ— সব কটাক্ষের জবাব এখন ঈশানের ব্যাট দিচ্ছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এক সম্পূর্ণ নতুন এবং বিধ্বংসী রূপে ধরা দিলেন এই ঝাড়খণ্ডী ব্যাটার।
প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে কঠিন লড়াই: ২০২৩ সালে ভারতীয় দল থেকে বাদ পড়া এবং বিসিসিআই-এর শাস্তির মুখে পড়ার পর ঈশান নিজেকে প্রচারের আড়ালে নিয়ে যান। তবে বসে থাকেননি। নিজেকে নতুন করে গড়তে ফিরে যান ঘরোয়া ক্রিকেটে। ঝাড়খণ্ডের হয়ে রঞ্জি ট্রফি খেলে নিজের ব্যাটিংয়ের খামতিগুলো শুধরে নেন। এরপর সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে অবিশ্বাস্য ফর্ম এবং বিজয় হাজারে ট্রফিতে তাঁর ধারাবাহিকতা নির্বাচকদের বাধ্য করে তাঁকে আবার জাতীয় দলে ফেরাতে। শুভমান গিলের অফ-ফর্ম আর সঞ্জু স্যামসনের ধারাবাহিকতার অভাব ঈশানের জন্য জাতীয় দলের দরজা চওড়া করে দেয়।
পাক-বধের নায়ক: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে যখন ভারতের ওপর পাহাড়প্রমাণ চাপ, তখন মাত্র ৪০ বলে ৭৭ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন ঈশান। তাঁর এই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সামনে দিশেহারা হয়ে পড়ে পাক বোলিং লাইন-আপ। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব থেকে শুরু করে বিপক্ষ কোচ মাইক হেসন— সবাই এখন ঈশানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। হেসন স্বীকার করে নিয়েছেন, ঈশান যেভাবে মাঠের চারদিকে শট খেলতে পারেন, তাতে স্পিনারদের পক্ষে তাঁকে আটকানো অসম্ভব।
তিলকের সঙ্গে সেই মরণকামড়: ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল তিলক বর্মার সঙ্গে ঈশানের ৪৬ বলে ৮৭ রানের পার্টনারশিপ। একদিকে তিলক ছিলেন সংযত, অন্যদিকে ঈশান ছিলেন খুনে মেজাজে। এই পরিকল্পিত ব্যাটিংই ভারতকে জয়ের সরণিতে পৌঁছে দেয়। সমালোচকরা বলছেন, এটা শুধু আগ্রাসন নয়, ঈশান কিষান এখন অনেক বেশি পরিণত। বিশ্বকাপের মঞ্চে ‘পকেট ডায়নামো’র এই নতুন রূপ দেখে নিশ্চিতভাবেই স্বস্তিতে টিম ইন্ডিয়া।