“চোরও তো সুযোগ পায়, এদের কেন নয়?”-কমিশনের ‘তুঘলকি’ সিদ্ধান্তে মেজাজ হারালেন মমতা!

লোকসভা ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়ছে। ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) ঘিরে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারের সংঘাত এবার চরমে। মঙ্গলবার বিকেলে আরও ৩ জন মাইক্রো অবজার্ভারকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। দায়িত্বের প্রতি চরম গাফিলতি এবং নিজের কাজ অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কেন এই সাসপেনশন? রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর সূত্রে খবর, জেলা পর্যায়ের অবজার্ভারদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা— নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনওরকম ফাঁকিবাজি বরদাস্ত করা হবে না। নিজের কাজ নিজেকেই করতে হবে, অন্য কাউকে দিয়ে দায় সারার চেষ্টা করলেই জুটবে শাস্তি।
নবান্ন বনাম কমিশন: সংঘাতের আবহ উল্লেখ্য, গত ১৫ ফেব্রুয়ারিও সাতজন ERO আধিকারিককে সাসপেন্ডের নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের অভিযোগ ছিল। এমনকি, আগের ৪ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর না হওয়ায় রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে দিল্লিতে তলব পর্যন্ত করা হয়েছিল।
‘তুঘলকি আচরণ’, তোপ মমতার কমিশনের এই একের পর এক কড়া পদক্ষেপে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “একটা চোর চুরি করলেও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পায়। সেখানে আধিকারিকদের বিনা প্রশ্নে সাসপেন্ড কেন?” কমিশনের এই অতি-সক্রিয়তাকে ‘তুঘলকি আচরণ’ বলে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ভোটের মাত্র তিন মাস আগে এই প্রক্রিয়ার ফলে প্রশাসনিক কাজে অচলাবস্থা তৈরি হচ্ছে।
কমিশনের পালটা যুক্তি অন্যদিকে, নির্বাচন সদন নিজেদের অবস্থানে অনড়। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই কড়া পদক্ষেপ জরুরি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা নিয়ে কমিশন বনাম রাজ্যের এই স্নায়ুযুদ্ধ ভোটের লড়াইকে আরও জটিল করে তুলছে।