নবান্ন বনাম নির্বাচন কমিশন: ৪ WBCS অফিসারের বিরুদ্ধে FIR! মমতার হুঁশিয়ারি— ‘বাউন্ডারির বাইরে গেলে ছক্কা খেতে হবে’

লোকসভা নির্বাচনের মুখে রাজ্য প্রশাসন ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সংঘাত চরমে। ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে দীর্ঘ টালবাহানার পর, অবশেষে চার হেভিওয়েট WBCS আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) করল রাজ্য সরকার। কমিশনের দেওয়া কড়া ডেডলাইন শেষ হওয়ার ঠিক আগেই নবান্নের এই পদক্ষেপ ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও কমিশনের চাপ: অভিযোগ উঠেছিল, পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় বড়সড় কারচুপি করা হয়েছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই কেন্দ্রের ইআরও (ERO) এবং এইআরও (AERO)-দের নাম জড়ায়। কমিশন আগেই এফআইআরের নির্দেশ দিলেও নবান্ন তা কার্যকর করতে গড়িমসি করছিল বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে তলব করে কমিশন মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়। সেই চরমপত্র পাওয়ার পরেই নতিস্বীকার করে পদক্ষেপ নেয় রাজ্য।

যাঁদের বিরুদ্ধে FIR: যাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই ডব্লিউবিসিএস (WBCS) অফিসার। তালিকায় রয়েছেন:

  • বারুইপুর পূর্ব: দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী ও তথাগত মণ্ডল।

  • ময়না: বিপ্লব সরকার ও সুদীপ্ত দাস।

মুখ্যমন্ত্রীর ‘ছক্কা’ হুঁশিয়ারি: এই ঘটনা নিয়ে নবান্নে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের নির্দেশকে ‘তুঘলকি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আইন আইনের পথে চলবে। কিন্তু তার একটা বাউন্ডারি আছে। বাউন্ডারির বাইরে গেলে কিন্তু ছক্কা খেতে হবে।” আধিকারিকদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি হালকা চালে এও বলেন যে, তাঁর বিরুদ্ধেও অনেক এফআইআর রয়েছে, তাই বিষয়টি নিয়ে এত সিরিয়াস হওয়ার কিছু নেই।

তৃণমূল বনাম বিজেপির বাদানুবাদ: তৃণমূলের আইটি সেলের ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্যের দাবি, এই আধিকারিকরা মেরুদণ্ড সোজা রেখে কাজ করছিলেন বলেই কমিশনের রোষানলে পড়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপির মুখপাত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের কড়া হুঁশিয়ারি, “নিয়ম না মানলে সাত আর চার মিলে যেমন এগারো হয়েছে, এটা ১১১ হতে সময় লাগবে না। ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সব বলে দেবে।”