EC-র বিশাল পদক্ষেপ, এবার সাসপেন্ড রাজ্যের ৩ মাইক্রো অবজার্ভার

লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে নির্বাচন কমিশনের ‘ঝড়’ অব্যাহত। ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR (Special Interactive Roll) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য বনাম কমিশন সংঘাত এবার চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার বিকেলে ফের তিন জন ইলেক্টোরাল রোল মাইক্রো অবজার্ভারকে (Micro Observer) সাসপেন্ড করল কমিশন।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর সূত্রে খবর, জেলা পর্যায়ের অবজার্ভারদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, ওই তিন আধিকারিক নিজেদের দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতি করেছেন এবং নিজেদের কাজ অন্যের ওপর চাপিয়ে দিয়ে দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করেছেন। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ—নির্বাচনী কাজে কোনওরকম অলসতা বা অসততা বরদাস্ত করা হবে না।
তপ্ত রাজনৈতিক আবহাওয়া ও মমতার তোপ: এদিন নবান্ন থেকে কমিশনের এই ‘সাসপেনশন নীতি’ নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাত ERO আধিকারিককে সাসপেন্ড করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন:
“একটা চোরও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পায়, কিন্তু এখানে বিনা প্রশ্নে কেন সাসপেন্ড করা হচ্ছে? নির্বাচনের মাত্র তিন মাস আগে কেন এই SIR প্রক্রিয়া? এটা প্রশাসনিক ক্ষমতা আটকে দেওয়ার তুঘলকি আচরণ।”
নজরে মুখ্যসচিব ও FIR বিতর্ক: উল্লেখ্য, এর আগে চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে FIR করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। সেই নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় খোদ রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে দিল্লিতে তলব করেছিল নির্বাচন সদন। আজ, মঙ্গলবার পর্যন্ত সেই FIR দায়েরের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কমিশন।
প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য: কমিশন সূত্রে খবর, ভোটার তালিকা স্বচ্ছ রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। কোনওরকম গরমিল বা অনিয়ম পেলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, নবান্নের পাল্টা দাবি—কমিশনের এই অতি-সক্রিয়তায় রাজ্যের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজে অচলাবস্থা তৈরি হচ্ছে।
ভোটের বাদ্যি বাজার আগেই যেভাবে আধিকারিকদের ওপর কোপ পড়ছে, তাতে প্রশাসনের অন্দরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, নবান্ন বনাম নির্বাচন সদনের এই দড়ি টানাটানি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।