৯০ রানে ৮ উইকেট! জম্মু-কাশ্মীরকে একাই ওড়ালেন সামি, নির্বাচকদের দিকে ধেয়ে এল সৌরভের প্রশ্ন

কল্যাণীর মাঠে তখন শুধু একজনেরই নাম প্রতিধ্বনিত হচ্ছে—মহম্মদ সামি। জম্মু-কাশ্মীরের বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে ৮ উইকেট নিয়ে একাই প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড ভেঙে দিলেন তিনি। ৯০ রান দিয়ে ৮ উইকেট, যা তাঁর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে জীবনের সেরা বোলিং পরিসংখ্যান। ২০১২ সালে মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে ৭৯ রানে ৭ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডকে আজ ছাপিয়ে গেলেন এই অভিজ্ঞ পেসার। সামির এই বিধ্বংসী মেজাজ দেখে মুগ্ধ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। মহারাজ স্পষ্ট জানিয়েছেন, “সামি জাতীয় দলেরই যোগ্য, এই বয়সে এসে ওঁর নতুন করে কিছু প্রমাণ করার নেই।”

সামির আগুনে স্পেলে ভর করে বাংলা প্রথম ইনিংসে ২৬ রানের লিড পেলেও দলের ব্যাটিং বিপর্যয় দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। প্রথম ইনিংসে ৩২৮ রান করা বাংলা দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯৯ রানে গুটিয়ে যায়। ফলে জম্মু-কাশ্মীরের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১২৬ রান। তৃতীয় দিনের শেষে ভূস্বর্গের স্কোর ৪৩/২। জয়ের জন্য তাদের এখনও ৮৩ রান প্রয়োজন। বাংলার আশা-ভরসা এখন সেই সামিই। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও যদি তিনি ম্যাজিক দেখাতে পারেন, তবেই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হবে মনোজ তিওয়ারিদের।

অন্যদিকে, জাতীয় দলে সামির ব্রাত্য থাকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সমর্থকরা। চলতি রঞ্জি মরসুমে ৭ ম্যাচে ৩৬ উইকেট নেওয়া সত্ত্বেও কেন বিসিসিআই-এর কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে তিনি বাদ, সেই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ক্রিকেট মহলে। নির্বাচক অজয় রাত্রা ও শিবসুন্দর দাসের সামনেই আজ সামি প্রমাণ করে দিলেন, ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট’। আগামীকাল সামির হাত ধরে বাংলা মিরাকল ঘটাতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।