ভোটার লিস্ট থেকে উধাও ৫৮ লক্ষ নাম! এক বিজেপি নেতার কন্যার দিকে আঙুল তুলে বিস্ফোরক মমতা

ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নাম বাদ দেওয়া নিয়ে এবার সরাসরি তথ্যপ্রযুক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এক বিজেপি নেতার কন্যা আইটি সেলের মাধ্যমে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সুপরিকল্পিতভাবে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। একে ‘দু নম্বরি’ প্রক্রিয়া বলে অভিহিত করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মধ্যে বহু ‘জেনুইন’ বা বৈধ ভোটার রয়েছেন যাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিন নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, কী প্রক্রিয়ায় এবং কোন যুক্তিতে এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়া হল, তার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৪ তারিখ পর্যন্ত নথি যাচাইয়ের সময়সীমা থাকলেও ওই দিন বেলা তিনটে নাগাদ আচমকাই লগ-ইন পোর্টাল ব্লক করে দেওয়া হয়। এর ফলে বহু সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার বা বক্তব্য জানানোর সুযোগ পাননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
পাসপোর্ট সংক্রান্ত নথি যাচাই নিয়েও কেন্দ্রের দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সবার কাছে পাসপোর্ট থাকে না। বিহারে যদি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া ফ্যামিলি রেজিস্টার বা সমমানের নথি গ্রহণযোগ্য হয়, তবে বাংলায় তা কেন বাতিল করা হবে?” তিনি সাফ জানান, রাজ্যের সাধারণ মানুষের পাশে সরকার রয়েছে এবং জেলাশাসকদেরও মনোবল হারাতে নিষেধ করেছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন যে, ৫৮ লক্ষের তালিকায় কিছু অবৈধ নাম থাকতে পারে, কিন্তু তার আড়ালে হাজার হাজার বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পুরো বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তিনি। গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি রক্ষা করতে রাজ্য সরকার শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।