‘খামোশ’ নিয়ে আর ছেলেখেলা নয়! নিজের সম্মান বাঁচাতে সোজা আদালতে শত্রুঘ্ন সিনহা

বলিউডের ‘শটগান’ শত্রুঘ্ন সিনহা এবার মেজাজ হারালেন। তাঁর আইকনিক কণ্ঠস্বর, ছবি এবং বিশ্ববিখ্যাত সংলাপ ‘খামোশ’ (Khamosh)-এর অপব্যবহার রুখতে আইনি লড়াইয়ে নামলেন এই প্রবীণ অভিনেতা তথা আসানসোলের তৃণমূল সাংসদ। সোমবার বম্বে হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করে তিনি সাফ জানিয়েছেন, তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর ব্যক্তিত্ব বা কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে কেউ যেন মুনাফা না লোটে।

শত্রুঘ্ন সিনহার পক্ষে তাঁর পুত্র লব সিনহা এই আবেদনটি আদালতে পেশ করেছেন। আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, ই-কমার্স ওয়েবসাইট এবং অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা অভিনেতার সিনেমা ক্লিপ, ছবি এবং ভয়েস-রেকর্ডিং ব্যবহার করে কুরুচিকর মিম তৈরি করছে। এর ফলে তাঁর দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মান ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

বিচারপতি শর্মিলা দেশমুখের একক বেঞ্চে দাখিল করা এই পিটিশনে মেটা (ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম), এক্স (টুইটার), গুগল-সহ একাধিক বড় সংস্থাকে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। শত্রুঘ্ন সিনহার দাবি, ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে। কোনো অনুমতি ছাড়া তাঁর নাম, স্বাক্ষর বা সংলাপ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের পরিপন্থী।

আবেদনে অভিনেতা ২০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। পাশাপাশি, তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ যেন তাঁর কণ্ঠস্বর বা সংলাপ ব্যবহার না করে, তার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ চেয়েছেন। উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে ‘বদলা’ ছবিতে জগদীশ কানওয়ালের লেখা ‘খামোশ’ সংলাপটি শত্রুঘ্নর কণ্ঠে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পায়। সেই ঐতিহাসিক সম্পদকে হাতিয়ার করে বর্তমানের মিম সংস্কৃতির রমরমা বন্ধ করতেই এবার আদালতের দ্বারস্থ পর্দার ‘রাজু দাদা’। আদালত আপাতত এই বিষয়ে রায় সংরক্ষিত রেখেছে।