হাম্পিতে ইজরায়েলি পর্যটককে গণধর্ষণ ও খুন! ৩ পাষণ্ডের মৃত্যুদণ্ড দিল কর্ণাটকের আদালত

কর্ণাটকের হাম্পির কাছে এক নৃশংস অপরাধের ঘটনায় ঐতিহাসিক রায় দিল আদালত। এক ইজরায়েলি পর্যটক-সহ দুই তরুণীকে গণধর্ষণ এবং এক পর্যটককে খুনের ঘটনায় সোমবার তিন আসামীকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। গত বছরের মার্চ মাসে ঘটে যাওয়া এই পৈশাচিক ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হাড়িমল্লা, সাই এবং শরণাপ্পলকে সর্বোচ্চ সাজা শুনিয়ে গঙ্গাবতী জেলা ও দায়রা আদালত জানিয়েছে, এই অপরাধ ‘বিরলতম’ পর্যায়ভুক্ত।

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ৬ মার্চ, হাম্পির কাছে তুঙ্গভদ্রা লেফট ব্যাঙ্ক ক্যানাল সংলগ্ন সনপুরা এলাকায়। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, তিন আসামী পর্যটকদের একটি দলের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা দাবি করেছিল। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা বর্বরোচিত হামলা চালায়। পর্যটক দলে থাকা তিনজন পুরুষকে আসামীরা ধাক্কা মেরে খালের জলে ফেলে দেয়। তাদের মধ্যে দুজন সাঁতরে প্রাণে বাঁচলেও ওড়িশার এক পর্যটক জলে ডুবে মারা যান। এরপর ওই দলের দুই তরুণীকে, যাঁদের মধ্যে একজন ইজরায়েলি নাগরিক, তারা নির্দয়ভাবে গণধর্ষণ করে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের পর্যটন ও নিরাপত্তার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছিল। কর্ণাটক পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট পেশ করলে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সোমবার সাজা ঘোষণার সময় আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, বিদেশি পর্যটক এবং দেশের সাধারণ নাগরিকদের ওপর এহেন ঘৃণ্য অপরাধ কোনোভাবেই ক্ষমাযোগ্য নয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযুক্তদের ফাঁসির সাজা ঘোষণা করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতাদের পরিবার। আদালতের এই রায় সমাজে এক কড়া বার্তা দেবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।