‘আইএসএফ পরীক্ষিত নয়’! ভোটের আগে সেলিমদের কড়া হুঁশিয়ারি ফরওয়ার্ড ব্লকের, বাম জোটে বড় ফাটল?

বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই বামফ্রন্টের অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র সংঘাত। একদিকে তৃণমূল-বিজেপি যখন রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত, তখন আসন সমঝোতা নিয়ে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের অন্দরে শরিকি ‘ঝগড়া’ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) এবং নতুন কিছু সম্ভাব্য সঙ্গী নিয়ে সিপিএম-এর অতি-সক্রিয়তা মানতে পারছে না ফরওয়ার্ড ব্লকের মতো পুরনো শরিকরা।

হেমন্ত বসু ভবন থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আইএসএফ-কে নিয়ে তাঁদের ঘোর আপত্তি রয়েছে। তাঁর সাফ কথা, “নামের মধ্যে সেকুলার থাকলেই কেউ ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে যায় না। রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কোনো দিক থেকেই আইএসএফ পরীক্ষিত নয়।” বাম শরিকদের এই কড়া মনোভাব আলিমুদ্দিনের ম্যানেজারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সূত্রের খবর, ২৯৪টি আসনের মধ্যে সিপিআই ২০টি এবং ফরওয়ার্ড ব্লক ২১টি আসনের দাবি তুলেছে, যা নিয়ে সিপিএম নেতৃত্বের সঙ্গে টানাপড়েন চলছে।

জটিলতা আরও বেড়েছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশ কিছু আসন নিয়ে। উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া আসনটি কোনোভাবেই আইএসএফ-কে ছাড়তে নারাজ সিপিআই(এম) স্থানীয় নেতৃত্ব। অথচ আইএসএফ সেখানে প্রার্থী দিতে মরিয়া। এই জট কাটাতে আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের মতো ‘নিরপেক্ষ’ মুখকে প্রার্থী করার কথা ভাবা হলেও নিচুতলার কর্মীরা তা মেনে নেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। একই ছবি সোনারপুর উত্তর ও দক্ষিণেও, যেখানে সিপিএম ও সিপিআই-এর দাবি ঘিরে ল্যাজেগোবরে অবস্থা নেতৃত্বের। শওকত মোল্লার মতো তৃণমূল নেতাদের পাল্টা চ্যালেঞ্জ সামলানোর চেয়েও এখন বামেদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজেদের ঘর সামলানো। নওশাদ সিদ্দিকিরা যখন জোটের আশায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, তখন শরিকি ‘অ্যালার্জি’ বাম ঐক্যের ভবিষ্যৎকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।