স্কুল ব্যাগ থেকে বেবি ফুড— সর্বত্র বিষ! মালদহে ১৭ কোটির মাদক উদ্ধার হতেই ফাঁস পাচারের হাড়হিম করা ছক

মালদহ মানেই এককালে ছিল আমের সুগন্ধ, কিন্তু বর্তমানে সেই জেলাতেই থাবা বসিয়েছে বিষাক্ত মাদকের কারবার। পুলিশের সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে এমন এক তথ্য, যা শুনে শিউরে উঠছেন অভিভাবক থেকে প্রশাসন। সাধারণ স্কুল ব্যাগ, পড়ার বইয়ের পাতা এমনকি কোলের শিশুর খাবারের প্যাকেটকেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে মাদক পাচারকারীরা। সম্প্রতি ইংরেজবাজারের কুমারপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালদহ জেলা পুলিশ প্রায় ১৭ কোটি টাকার ব্রাউন সুগার উদ্ধার করেছে, যা এই চক্রের বিশালত্বের প্রমাণ দিচ্ছে।
আন্তঃরাজ্য চক্রের মরণজাল
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতের অসম, মেঘালয়, মণিপুর এবং নাগাল্যান্ডের মতো রাজ্যগুলো থেকে মাদক তৈরির কাঁচামাল নিয়ে আসা হচ্ছে মালদহে। এখানে অত্যন্ত গোপনে তৈরি হচ্ছে ব্রাউন সুগার, যা পরবর্তীতে ছড়িয়ে পড়ছে পূর্ব ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে। এই বিশাল সাম্রাজ্যের মূল পান্ডা এনারুল শেখকে গত জানুয়ারি মাসে কলকাতার এন্টালি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জেরা করেই গোয়া সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে পুলিশ।
নিশানায় নাবালক ও মায়েরা
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো পাচারের কৌশল। পুলিশ জানতে পেরেছে, ১২ থেকে ১৪ বছরের নাবালকদের এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। টাকার বিনিময়ে নয়, অনেক ক্ষেত্রে নেশার নেশার বিনিময়েই এই পড়ুয়ারা বইয়ের পাতার ফাঁকে ছোট ছোট পুরিয়া ভরে পৌঁছে দিচ্ছে নির্দিষ্ট গন্তব্যে। বাদ যাচ্ছেন না সদ্য মা হওয়া মহিলারাও। শিশুখাদ্যের আড়ালে মাদক নিয়ে যাওয়ার সময় কেউ তাঁদের সন্দেহ করবে না— এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে চক্রটি। উদ্ধার হওয়া এক নাবালক জানিয়েছে, টাকার বদলে তাকে মাদকই দেওয়া হতো। প্রশাসনের এখন প্রধান মাথাব্যথা হলো এই শেকড় উপড়ানো, কারণ মালদহে এই কারবার এখন এক ভয়ঙ্কর ‘মাদক শিল্পে’ পরিণত হয়েছে।