‘সমান্তরাল সরকার’ চালাবে জামাত? তারেককে চাপে রাখতে শুরু তোড়জোড়

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। বিপুল জনমত নিয়ে বাংলাদেশে ক্ষমতায় ফিরল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)। আজ রাজকীয় আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমান। এই মাহেন্দ্রক্ষণে ঢাকা সেজেছে রাজকীয় সাজে, আমন্ত্রিত হয়েছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে আজ সেখানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ওম বিড়লার।
কিন্তু উৎসবের আবহের মধ্যেই কি অশনি সংকেত? তারেক সরকারের ওপর চাপ বজায় রাখতে এক নজিরবিহীন চাল চালছে দেশের বিরোধী শিবির।
কী এই ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’? কেন চিন্তায় বিশেষজ্ঞরা?
সংখ্যায় নগণ্য হলেও বিএনপি সরকারকে এক চুল জমিও ছাড়তে নারাজ বিরোধীরা। ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মেহমুদ শোয়েব সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা একটি ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ বা ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন করছেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য হবে সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর কড়া নজরদারি চালানো।
একই সুর শোনা গিয়েছে জামাত-ই ইসলামির টিকিটে জয়ী শশী মুনিরের কণ্ঠেও। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “সরকার নিজের মতো ক্যাবিনেট গড়ুক, আমরাও গড়ছি আমাদের ক্যাবিনেট। সংসদের ভেতরে ও বাইরে এবার সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হবে।”
জেনে নিন শ্যাডো ক্যাবিনেট কী: ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি সিস্টেমে এই ধারণা অত্যন্ত জনপ্রিয়। সেখানে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রকের বিপরীতে বিরোধীদের একজন নির্দিষ্ট প্রতিনিধি থাকেন। সরকারের ভুল ধরা এবং বিকল্প নীতি দেওয়াই তাঁদের কাজ।
বাংলাদেশে কি তবে বিশৃঙ্খলার ভয়?
বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনও ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’-এর চল ছিল না। সংবিধান বা সংসদীয় পরিকাঠামোতেও এর কোনো আইনি স্বীকৃতি নেই। নির্বাচনে বিএনপি ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাধিক্য পেলেও, জামাত ও এনসিপি-সহ ১১ দলের জোট জিতেছে ৭৭টি আসনে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই ছায়া মন্ত্রিসভা আসলে একটি ‘সমান্তরাল সরকার’ চালানোর চেষ্টা হতে পারে। এনসিপি বা জামাতের মতো দলগুলো যদি সংসদীয় রীতিনীতির বাইরে গিয়ে কাজ করতে শুরু করে, তবে তা নতুন সরকারের জন্য চরম মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তারেক রহমানের নতুন ইনিংসের শুরুতেই এই ‘ছায়া’ কি তবে বড় কোনো ঝড়ের পূর্বাভাস? এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।