শরীরে ছিল ৩টি পুরুষাঙ্গ! ৭৯ বছর পর বৃদ্ধের মৃতদেহ কাটতেই চক্ষু চড়কগাছ গবেষকদের

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এ যেন এক অকল্পনীয় ঘটনা! যুক্তরাজ্যে সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধের মরদেহ ব্যবচ্ছেদ (Dissection) করতে গিয়ে তাঁর দেহে একটি নয়, বরং তিনটি পুরুষাঙ্গের হদিস পেলেন গবেষকরা। ‘বার্মিংহাম মেডিকেল স্কুল’-এর গবেষকদের এই আবিষ্কারে রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে বিশ্বজুড়ে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘ট্রাইফ্যালিয়া’ (Triphallia)

কী ঘটেছিল সেই মৃতদেহে?

গবেষণা অনুযায়ী, ৭৯ বছর বয়সী ওই শ্বেতাঙ্গ বৃদ্ধের উচ্চতা ছিল প্রায় ৬ ফুট। শারীরিক পরীক্ষার সময় দেখা যায়, তাঁর মূল পুরুষাঙ্গের চামড়ার নিচে বা দেহের ভেতরের অংশে আরও দুটি লিঙ্গ সদৃশ কাঠামো রয়েছে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ওই বৃদ্ধ সম্ভবত নিজের এই শারীরিক গঠন সম্পর্কে জানতেনই না। কারণ, অতিরিক্ত দুটি অঙ্গ অণ্ডকোষের থলির ভেতরে এমনভাবে লুকানো ছিল যে বাইরে থেকে তা বোঝা অসম্ভব ছিল।

কতটা বিরল এই ‘ট্রাইফ্যালিয়া’?

চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্যমতে, জন্মগতভাবে অতিরিক্ত লিঙ্গ থাকার ঘটনা প্রতি ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ মানুষের মধ্যে মাত্র একজনের ক্ষেত্রে দেখা যায়। ১৬০৬ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নথিবদ্ধ ইতিহাসে ‘ট্রাইফ্যালিয়া’ বা তিনটি লিঙ্গের ঘটনা প্রায় নেই বললেই চলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাড়তি অঙ্গটি দেহের বাইরে থাকে, যা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু দেহের ভেতরে এমন গঠন নজরে আসে সাধারণত মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের সময়।

কেন এমন হয়? বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা কী?

গবেষক দলটির মতে, ভ্রূণ অবস্থায় যখন শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তৈরি হয়, তখন হরমোনের বা জেনেটিক কোনো অস্বাভাবিকতার কারণে এটি হতে পারে।

  • ভ্রূণের বিকাশ: ভ্রূণ অবস্থায় ‘জেনিটাল টিউবারকল’ (যেখান থেকে পুরুষাঙ্গ তৈরি হয়) কোনোভাবে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল।

  • মূত্রনালীর গতিপথ: প্রধান লিঙ্গটির পাশাপাশি দ্বিতীয় লিঙ্গটিতেও মূত্রনালীর গঠন শুরু হয়েছিল, তবে পরে তা গতিপথ পরিবর্তন করে প্রধান অঙ্গে মিশে যায়। তৃতীয়টি ছিল জেনিটাল টিউবারকলের অবশিষ্টাংশ মাত্র।

ওই বৃদ্ধ কি সমস্যায় ভুগতেন?

গবেষকদের ধারণা, এই অদ্ভুত শারীরিক গঠনের কারণে ওই ব্যক্তি জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে প্রজনন জটিলতা, মূত্রনালীর সংক্রমণ বা লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যায় ভুগে থাকতে পারেন। তবে যেহেতু তাঁর কোনো চিকিৎসাগত ইতিহাস (Medical History) পাওয়া যায়নি, তাই নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন। গবেষকদের মতে, যৌন মিলনের সময় হয়তো তিনি ব্যথা অনুভব করতেন, কারণ উত্তেজনার সময় ভেতরের অঙ্গ দুটিও সক্রিয় হয়ে উঠত।

২০২৪ সালের অক্টোবরে ‘জার্নাল অফ মেডিকেল কেইস রিপোর্টস’-এ এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে চিকিৎসক মহলে এটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।