“ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ মানেই …?”-তারেক জমানায় কেমন হবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন বিএনপি প্রধান তারেক রহমান। শেখ হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের জমানায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তারেক জমানায় তা কোন দিকে মোড় নেবে? এই নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক মহলে প্রবল কৌতূহল।

হাসিনাকে ফেরানো কি শর্ত? কী বলছে বিএনপি?

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো নিয়ে ভারতের সঙ্গে ইউনূস সরকারের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির স্পষ্ট জানান, “শেখ হাসিনা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন, বাংলাদেশের মানুষ তাঁর শাস্তি চায়। আমরা বিশ্বাস করি ভারতের উচিত তাঁকে ফেরত দেওয়া। তবে এর জন্য দুই দেশের বাণিজ্যিক বা কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না। আমরা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কই চাই।”

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: সংঘাত নয়, সহযোগিতার পথে?

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে মির্জা ফখরুল বেশ কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন:

  • আমেরিকা-চিন মডেল: তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমেরিকা ও চিন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়েও যদি একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তবে ভারত ও বাংলাদেশ কেন পারবে না? সম্পর্ক কোনো একটি নির্দিষ্ট ইস্যুতে আটকে থাকা উচিত নয়।

  • ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: তিনি মনে করিয়ে দেন, অতীতে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে মোরারজি দেশাই বা ইন্দিরা গান্ধীর সুসম্পর্ক ছিল। সেই ধারা বজায় রাখতেই আগ্রহী বর্তমান বিএনপি নেতৃত্ব।

  • সীমান্ত ও জলচুক্তি: আগামী বছর গঙ্গা জলচুক্তি পুনর্নবীকরণ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসবে ঢাকা। ফারাক্কা ও সীমান্ত সমস্যা সমাধানে আলোচনার ওপরই জোর দিচ্ছেন তাঁরা।

যুদ্ধ নয়, সাহায্য চায় ঢাকা

বাংলাদেশে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বা যুদ্ধের উস্কানি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আলমগির সাফ জানান, “যারা ভারতের সঙ্গে লড়াইয়ের কথা বলে, তারা পাগলের প্রলাপ বকছে। আমরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারি না। বরং কারিগরি শিক্ষা ও বেকারত্ব দূরীকরণে আমরা ভারতের সম্পদ ও সাহায্য নিতে চাই।”

তারেক রহমানের রহস্যময় অবস্থান

১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে গত ডিসেম্বরে লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। ২০০১-২০০৬ সালের বিএনপি জমানায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকলেও, এবার ফেরার পর থেকে ভারতবিরোধী কোনো মন্তব্য করা থেকে সুকৌশলে নিজেকে বিরত রেখেছেন তারেক। যা দেখে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, দিল্লির সঙ্গে নতুন করে বন্ধুত্বের হাত বাড়াতে চাইছেন হবু প্রধানমন্ত্রী।