‘ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ…?’ তারেকের শপথ গ্রহণের আগেই হাসিনা নিয়ে যা বললো BNP

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন বিএনপি প্রধান তারেক রহমান। শেখ হাসিনা পরবর্তী জমানায় মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কে যে শৈত্য তৈরি হয়েছিল, তারেক জমানায় তা কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

শপথের প্রাক্কালে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ স্পষ্ট করলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির

হাসিনাকে ফেরানোর দাবি, তবে কি সম্পর্কে প্রভাব পড়বে?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-কে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল স্পষ্ট জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন এবং সাধারণ মানুষ তাঁর বিচার চায়। তাই হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া ভারতের উচিত। তবে তিনি এটাও যোগ করেছেন যে, “হাসিনা ইস্যুর জন্য ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক বা কূটনৈতিক সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।”

ভারত-বাংলাদেশ: সংঘাত নয়, সমন্বয়

মির্জা ফখরুলের কথায়, আমেরিকা ও চিনের মতো কট্টর প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ যদি নিজেদের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তবে ভারত ও বাংলাদেশ কেন পারবে না? তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে মোরারজি দেশাই বা ইন্দিরা গান্ধীর সুসম্পর্ক ছিল। তাঁর দাবি, বিএনপির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ইতিহাস যথেষ্ট ইতিবাচক।

আগামী দিনের রোডম্যাপ: কোন কোন ইস্যুতে কথা বলবে ঢাকা?

নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই ভারতের সঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় বসতে চায়:

  • গঙ্গা জলচুক্তি: আগামী বছরই ফারাক্কা ও গঙ্গা জলচুক্তি পুনর্নবীকরণের বিষয়টি উত্থাপন করবে বিএনপি সরকার।

  • সীমান্ত সমস্যা: বিএসএফ-বিজিবি সংঘাত ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে আলোচনার পথে হাঁটবে ঢাকা।

  • বেকারত্ব দূরীকরণ: বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক বেকার যুবকদের কারিগরি শিক্ষার জন্য ভারতের উন্নত সম্পদ ও প্রযুক্তিগত সাহায্য নিতে চায় তারেক রহমানের সরকার।

  • বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন: যারা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কথা বলে, তাদের ‘পাগল’ বলে আখ্যা দিয়ে ফখরুল জানান, আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান হবে।

তারেক রহমানের ‘কৌশলী’ অবস্থান

দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসনে থাকার পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০০১-২০০৬ সালের তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি না করে, এবার তিনি ভারতবিরোধী কোনো কড়া মন্তব্য করা থেকে সচেতনভাবে বিরত থেকেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লির আস্থা অর্জন করতেই তারেকের এই কৌশলী নীরবতা।

এক নজরে বিএনপির অবস্থান: “আমরা ভারতের সঙ্গে লড়াই করতে পারি না, সেটা পাগলামি। আমাদের লক্ষ্য উন্নয়ন এবং ভারতের সহযোগিতায় বেকারত্ব দূর করা।” — মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির।