বাংলাদেশি ট্রলারে মত্স্যজীবীর কাছে ভারতীয় পরিচয়পত্র, ঘটনায় ছড়ালো চাঞ্চল্য

ফের ভারতীয় জলসীমায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে চাঞ্চল্য! রবিবার গভীর রাতে ভারতীয় কোস্টগার্ডের অভিযানে আটক হলো একটি বাংলাদেশি ট্রলারসহ ২৮ জন মৎস্যজীবী। উদ্ধার হওয়া ট্রলারটির নাম ‘এফবি সাগর’। সোমবার সকালে ধৃতদের ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্যবন্দরে এনে উপকূল থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এই সাধারণ অনুপ্রবেশের ঘটনার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক রহস্যময় তথ্য এখন ঘুম উড়িয়েছে প্রশাসনের।
মাঝসমুদ্রে কোস্টগার্ডের হানা
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার রাতে টহলদারি শুরু করে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। ভারতীয় জলসীমার বেশ গভীরে ‘এফবি সাগর’ নামক ট্রলারটিকে সন্দেহজনকভাবে ঘুরতে দেখা যায়। জেরা শুরু করতেই জানা যায়, ট্রলারে থাকা ২৮ জন মৎস্যজীবীই বাংলাদেশের কুতুবদিয়া জেলার বাসিন্দা। এরপরই ট্রলারসহ সকলকে আটক করে ফ্রেজারগঞ্জ উপকূলে নিয়ে আসা হয়।
রবীন্দ্রনাথের ডবল গেম! দুই দেশের পরিচয়পত্র নিয়ে তোলপাড়
এই সাধারণ আটকের ঘটনা নাটকীয় মোড় নেয় যখন জনৈক মৎস্যজীবী রবীন্দ্রনাথ দাসের তল্লাশি চালানো হয়। পুলিশ ও কোস্টগার্ড অবাক হয়ে দেখে, তাঁর কাছে ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশেরই বৈধ পরিচয়পত্র রয়েছে! রবীন্দ্রনাথ নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
তদন্তকারীদের মনে এখন একগুচ্ছ প্রশ্ন:
-
রবীন্দ্রনাথ কি আগে ভারতে থাকতেন এবং পরে বাংলাদেশে চলে যান?
-
সামনেই কি ভারতের কোনো নির্বাচনের আগে তাঁকে বিশেষ উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে?
-
দুই দেশের পরিচয়পত্র পাওয়ার পেছনে কোনো বড়সড় জালিয়াত চক্র কাজ করছে?
সাথী মৎস্যজীবীদের বিস্ফোরক বয়ান
ট্রলারে থাকা অন্যান্য মৎস্যজীবীরা জানিয়েছেন, একটি বিশেষ চুক্তির অধীনে রবীন্দ্রনাথকে আনা হয়েছিল। কথা ছিল, মাঝসমুদ্রে কোনো একটি ভারতীয় ট্রলারে তাঁকে তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু তার আগেই কোস্টগার্ডের জালে ধরা পড়ে যান তাঁরা।
বর্তমানে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রবীন্দ্রনাথকে দফায় দফায় জেরা করছে। এই ঘটনায় আন্তঃদেশীয় কোনো পাচারচক্র বা অনুপ্রবেশের বড় ছক জড়িয়ে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্যবন্দরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।