শামি-মুকেশের ‘আগুন’ স্পেলে পুড়ল জম্মু-কাশ্মীর! কল্যাণীতে সেমিফাইনালের দখল নিচ্ছে বাংলা

সুদীপ ঘরামির অনবদ্য সেঞ্চুরির পর বল হাতে দাপট দেখালেন মহম্মদ শামি ও মুকেশ কুমার। কল্যাণীর বাইশ গজে রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালের দ্বিতীয় দিনের শেষে বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় বাংলা। প্রথম ইনিংসে বাংলার ৩২৮ রানের জবাবে দিন শেষে জম্মু-কাশ্মীরের স্কোর ৫ উইকেটে ১৯৮। এখনও বাংলার চেয়ে ১৩০ রানে পিছিয়ে তারা। ক্রিজে রয়েছেন আবিদ মুস্তাক (২৬*) ও কানহাইয়া ওয়াধাওয়ান (১০*)।

সুদীপের বীরত্ব ও আকিবের ৫ উইকেট এদিন ৫ উইকেটে ২৪৯ রান নিয়ে খেলা শুরু করেছিল বাংলা। সুদীপ ঘরামি এদিন ব্যক্তিগত স্কোরে ১০ রান যোগ করে ১৪৬ রানে আউট হন। তাঁর চোখধাঁধানো ইনিংসে ছিল ২১টি চার ও ১টি ছক্কা। বাংলার লোয়ার অর্ডার খুব বেশি প্রতিরোধ গড়তে না পারলেও সুমন্ত গুপ্তর ৩৯ রানের সৌজন্যে দল ৩০০-র গণ্ডি টপকায়। জম্মু-কাশ্মীরের হয়ে পেসার আকিব নবি ৫ উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছেন।

শামির তোপে দিশেহারা অতিথি দল জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই শামির আগুনে বোলিংয়ের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে জম্মু-কাশ্মীরের টপ অর্ডার। মাত্র ১৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল তারা। জোড়া উইকেট নেন শামি, একটি মুকেশ। তবে চতুর্থ উইকেটে পাল্টা লড়াই শুরু করেন অভিজ্ঞ পরশ ডোগরা (৫৮) ও আব্দুল সামাদ (৮২)। দুজনে ১৪৩ রানের পার্টনারশিপ গড়ে বাংলার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিলেন।

টার্নিং পয়েন্ট ও বর্তমান পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠা সামাদকে ফিরিয়ে বাংলাকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন শামিই। অন্যদিকে পরশকে ফেরান মুকেশ। দিন শেষে শামি ৬০ রানে ৩ উইকেট ও মুকেশ ২ উইকেট নিয়েছেন। বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা বোলারদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তৃতীয় দিন সকালে প্রথম দুই ঘণ্টা বাংলার পেসার চতুষ্টয় যদি দ্রুত বাকি উইকেটগুলো তুলে নিতে পারেন, তবে প্রথম ইনিংসের লিড নিশ্চিত হবে অভিমন্যু ঈশ্বরণদের। নির্বাচকদের নজরে থাকা শামি নিজেকে নিংড়ে দিতে যে মরিয়া, তা তাঁর বোলিং স্পেলেই স্পষ্ট।