‘সাংসদ বলেই কি এত দরদ?’ মহুয়ার এফআইআর নিয়ে পুলিশকে তুলোধনা হাইকোর্টের!

সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর পোস্ট ঘিরে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের দায়ের করা এফআইআর এবং তার ভিত্তিতে পুলিশের ‘অতিরিক্ত’ সক্রিয়তা নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। জনৈক ঋষি বাগড়ির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এই মামলায় পুলিশের পদক্ষেপের ধরন দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। শুনানির সময় তাঁর সরাসরি প্রশ্ন, “অভিযোগকারী শাসকদলের সাংসদ বলেই কি পুলিশ এত তৎপরতা দেখাল?”
ঠিক কী ঘটেছিল? গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে ই-মেলের মাধ্যমে কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ জানান মহুয়া মৈত্র। তাঁর দাবি ছিল, ঋষি বাগড়ি নামের এক ব্যক্তি এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে তাঁর কিছু ছবি ও পোস্ট শেয়ার করেছেন যা ‘যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ’ এবং ‘অবমাননাকর’। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ।
আইনি প্রক্রিয়ায় গলদ? আদালতে মামলাকারীর আইনজীবী অভিযোগ করেন, ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অভিযোগ জমা পড়লে নিয়ম অনুযায়ী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগকারীকে সশরীরে থানায় এসে স্বাক্ষর করতে হয়। কিন্তু মহুয়ার ক্ষেত্রে তিনদিন পেরিয়ে গেলেও সেই স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও পুলিশ কীভাবে এফআইআর গ্রহণ করল এবং অভিযোগ দায়েরের পরের দিনই কেন অভিযুক্তের নয়ডার বাড়িতে পৌঁছে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, সাধারণ মানুষের অভিযোগের ক্ষেত্রে পুলিশকে এমন তৎপরতা দেখাতে দেখা যায় না।
হাইকোর্টের রক্ষাকবচ ঋষি বাগড়ি গ্রেফতারির আশঙ্কায় এফআইআর খারিজের আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত রাজ্যের কাছে এই দ্রুত পদক্ষেপের ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তবে সরকারি আইনজীবী জবাব দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছেন। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ বা গ্রেফতারি করা যাবে না।
এই মামলাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনের গতি কি অভিযোগকারীর রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে?