কলকাতায় মোদির মেগা ব্রিগেড! দোল পূর্ণিমার পরেই কি বঙ্গ রাজনীতিতে ‘রথযাত্রা’র সুনামি?

২০২৬-এর নির্বাচনী রণদামামা বেজে গিয়েছে বাংলায়। আর সেই লক্ষ্যেই এবার তিলোত্তমার বুকে এক ঐতিহাসিক সমাবেশের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে ভারতীয় জনতা পার্টি। সূত্রের খবর, মার্চের মাঝামাঝি সময়ে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এক বিশাল জনসভার পরিকল্পনা করেছে গেরুয়া শিবির, যেখানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে উঠে আসছে ১৫ মার্চ।

রথযাত্রা থেকে ব্রিগেড: নয়া কৌশল বিজেপির এই মেগা পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘রথযাত্রা’। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক সাংগঠনিক অঞ্চল থেকে এই যাত্রা শুরু হবে। পরিকল্পনানুসারে, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র ছুঁয়ে এই রথগুলি এসে মিলিত হবে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। দোলযাত্রার ঠিক পরেই এই কর্মসূচি শুরু করার কথা ভাবছে দলীয় নেতৃত্ব, যাতে জনজোয়ারকে ব্রিগেডের মাঠে সফলভাবে আছড়ে ফেলা যায়।

শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক ও রণকৌশল গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতার শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজি চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসেছিলেন। আগামীকাল সল্টলেকের একটি বেসরকারি হোটেলে ফের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব সহ বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। বেলা ১১টা নাগাদ এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে চারটি সুসজ্জিত রথ বের করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজনে রথের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে।

জনমত ও ইস্তাহারে জোর এবারের প্রচার কৌশলে বিজেপি ‘মাইক্রো-লেভেল’ ম্যানেজমেন্টকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ এবং স্থানীয় ইস্যুগুলোকে সরাসরি নির্বাচনী ইস্তাহারে জায়গা দিতে চলছে জনমত সংগ্রহের কাজ। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য আলাদা ‘চার্জশিট’ তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে শাসকদলের ব্যর্থতা এবং স্থানীয় সমস্যাগুলোকে তুলে ধরা হবে।

মোদি সরকারের ‘পিএম রাহাত’ প্রকল্পের সুবিধা এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এই রথযাত্রার মূল উদ্দেশ্য। যদিও ব্রিগেড সমাবেশের দিনক্ষণ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়েনি, তবে মার্চের তপ্ত রোদ ওঠার আগেই বঙ্গ রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়াতে কোমর বেঁধে নামছে পদ্ম শিবির।