“বেকার ভাতা দিচ্ছে, চাকরির বালাই নেই”- থালা বাজিয়ে বিক্ষোভ প্রাথমিক চাকরিপ্রার্থীদের

হাতে ডিগ্রি আছে, তবুও জোটেনি কাজ। নিয়োগের দাবিতে ফের উত্তপ্ত সল্টলেকের করুণাময়ী চত্বর। সোমবার সাতসকালে ‘পশ্চিমবঙ্গ NIOS ডিএলএড সংগ্রাম মঞ্চ’-এর ডাকে বিকাশ ভবন অভিযানে সামিল হলেন কয়েকশো চাকরিপ্রার্থী। থালা বাজিয়ে অভিনব প্রতিবাদে মুখর হলেন তাঁরা, যা ঘিরে পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় ধস্তাধস্তি।
আদালতের রায় বনাম বর্তমান পরিস্থিতি
আন্দোলনকারীদের প্রধান অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার তাঁদের নিয়োগ নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করছে না। বিক্ষোভকারীদের কথায়, “আদালত নির্দিষ্ট করে বলে দিয়েছিল ২০২২-এর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ১২৩৩ জনকে চাকরি দিতে হবে। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও ফলের ফল কিছুই হয়নি।”
কেন এই আন্দোলন? এক নজরে মূল দাবিগুলি:
-
বৈধ নিয়োগ: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওপেন স্কুলিং (NIOS) থেকে ১৮ মাসের ডিএলএড কোর্স করা প্রার্থীদের নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করতে হবে।
-
বঞ্চনার অভিযোগ: আন্দোলনকারীদের দাবি, অন্যান্য রাজ্যে NIOS উত্তীর্ণরা চাকরি পেলেও শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই তাঁদের বঞ্চিত রাখা হচ্ছে।
-
ইন্টারভিউয়ের সুযোগ: রেগুলার কোর্সের প্রার্থীদের মতোই তাঁদেরও সম্মানের সঙ্গে ইন্টারভিউ এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে দিতে হবে।
‘বেকার ভাতা চাই না, সম্মান চাই’
এ দিন মিছিল বিকাশ ভবনের দিকে এগোতেই করুণাময়ী মোড়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের আটকে দেয়। ব্যারিকেডে আটকে পড়েই রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন চাকরিপ্রার্থীরা।
এক বিক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীর ক্ষোভ, “আমরা এমএ, বিএ পাশ করে বেকার ভাতার লাইনে দাঁড়াতে চাই না। শিক্ষিত মেহনতি মানুষের চাকরি নেই, অথচ সরকার বেকার ভাতা বিলোচ্ছে! আমাদের মেধার সম্মান দিয়ে অবিলম্বে ওই ১২৩৩ জনকে নিয়োগ করতে হবে।”
পুলিশি তৎপরতা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সল্টলেকে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। দফায় দফায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের কথা কাটাকাটি চলে। তবে নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে দীর্ঘ সময় রাস্তায় অবস্থান করেন আন্দোলনকারীরা। ন’বছর ধরে রাস্তায় থাকা এই শিক্ষিত যুবকদের ক্ষোভ এখন রাজ্য সরকারের অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।