বিদায় খুদে দেবদূত! ১০ মাসের শিশুর অঙ্গদানে বাঁচল ৩ জীবন, রাজকীয় সম্মানে ‘গার্ড অফ অনার’ দিল পুলিশ

বয়স মাত্র ১০ মাস। পৃথিবীর আলো চিনে নেওয়ার আগেই এক মর্মান্তিক পথদুর্ঘটনা কেড়ে নিল প্রাণ। কিন্তু যাওয়ার বেলায় সে দিয়ে গেল জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার। কেরলের সর্বকনিষ্ঠ অঙ্গদাতা হিসেবে নজির গড়ল ১০ মাসের শিশুকন্যা আলিন শেরিন। বৃহস্পতিবার ব্রেন ডেথ হওয়ার পর তাঁর অঙ্গদানে নতুন জীবন ফিরে পেল আরও ৩টি শিশু। এই মহৎ ত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে খুদে আলিনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অফ অনার’ দিয়ে শেষ বিদায় জানাল কেরল পুলিশ।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি পরিবারের সঙ্গে গাড়িতে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল ছোট্ট আলিন। উল্টো দিক থেকে আসা একটি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর জখম হয় সে। টানা কয়েক দিন যমে-মানুষে টানাটানির পর চিকিৎসকেরা জানান, আলিনের ব্রেন ডেথ হয়েছে। শোকাতুর বাবা-মা নিজেদের বুক ফেটে যাওয়া যন্ত্রণা চেপে রেখে সিদ্ধান্ত নেন মেয়ের অঙ্গদানের। আলিনের যকৃৎ (লিভার) প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে মাত্র ৬ মাস বয়সী এক শিশুর শরীরে। তাঁর কিডনি পেয়েছে ১০ বছরের এক কিশোর। এছাড়া হার্টের ভাল্ব এবং চোখও দান করা হয়েছে অন্য মুমূর্ষু রোগীদের জন্য।

আলিনের এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের সাক্ষী থাকতে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। ছোট্ট কফিনের সামনে যখন সারিবদ্ধ পুলিশ আধিকারিকরা সেলাম জানালেন, তখন উপস্থিত সকলের চোখে জল। বিয়োগান্তক পরিণতির মাঝেও আলিন দেখিয়ে দিয়ে গেল, মৃত্যু মানেই সব শেষ নয়; সঠিক ইচ্ছাশক্তি থাকলে মৃত্যুর পরেও বেঁচে থাকা যায় অন্যের হৃদস্পন্দনে।