সেলিমদের কড়া বার্তা ফরওয়ার্ড ব্লকের, ISF, হুমায়ুনদের নিয়ে যেভাবে পাকছে ‘ঘোঁট’ ?

২০২১ সালের সেই বিতর্কিত ব্রিগেডের স্মৃতি এখনও টাটকা। মঞ্চে আইএসএফ-এর আব্বাস সিদ্দিকিকে দেখে অধীর চৌধুরীর সেই ক্ষোভ এবং কংগ্রেস-বাম সম্পর্কের ফাটল দেখেছিল গোটা রাজ্য। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগেও সেই একই ‘ভাইজান’ কাঁটায় বিদ্ধ বামফ্রন্ট। তবে এবার ঝামেলার উৎস কংগ্রেস নয়, বরং ফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক। নওশাদ সিদ্দিকির দল আইএসএফ-এর সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে সরাসরি বেঁকে বসেছে নেতাজির তৈরি এই দল।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম যখন একদিকে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে পাঁচতারা হোটেলে গোপন বৈঠক করে সমালোচনার মুখে, ঠিক তখনই ঘরের ভিতর থেকে ধেয়ে এল ফরওয়ার্ড ব্লকের আক্রমণ। দলের রাজ্য কমিটি ও রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীর বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আইএসএফ-এর সঙ্গে কোনও মতেই আসন সমঝোতা করবে না ফরওয়ার্ড ব্লক। রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় সাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “জোট হলেও আইএসএফ প্রার্থীকে ফরওয়ার্ড ব্লক ভোট দেবে না।” তারা বামফ্রন্টেই থাকবে, কিন্তু নওশাদের দলকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না। ফরওয়ার্ড ব্লকের এই অনড় মনোভাব এবং ৩২টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার জেদ কার্যত সিপিএমের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে, ফ্রন্টের বাকি শরিকদের মধ্যেও শুরু হয়েছে আসন ভাগাভাগির চাপানউতোর। আরএসপি বৃহত্তর স্বার্থে আইএসএফ-কে মেনে নিলেও, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না হওয়ায় তারা ১৯টি আসন দাবি করছে। একই পথে হাঁটছে সিপিআই-ও। ২০২১ সালে জোট করে একমাত্র নওশাদ সিদ্দিকিই বিধানসভায় পৌঁছাতে পেরেছিলেন, বাকি বামেরা হয়েছিল ‘শূন্য’। এবারও যদি সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংকের টার্গেটে হুমায়ুন কবীরের জনতা উন্নয়ন পার্টি এবং নওশাদের আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট হয়, তবে বামেদের কপালে কী জুটবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দলের অন্দরেই। বামেরা নিজেদের ‘সেক্যুলার’ দাবি করলেও বারবার সংখ্যালঘু ভিত্তিক দলগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা ফ্রন্টের অস্তিত্বকেই সংকটে ফেলছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। শেষ পর্যন্ত শূন্যের গেরো কাটবে না কি শরিকি বিবাদে বাম দুর্গ আরও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে, সেটাই এখন দেখার।