ভোট মিটতেই রণক্ষেত্র পঞ্চগড়! মুখোমুখি সংঘর্ষে বিএনপি ও এনসিপি, তুঙ্গে উত্তেজনা

বাংলাদেশে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়। ভোট পরবর্তী উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে রবিবার বিকেলে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। স্থানীয় সূত্রে খবর, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যা শেষ পর্যন্ত রাজপথে আছড়ে পড়ে। দুপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি, পরে ব্যাপক হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব থেকে উঠে আসা ছাত্রদের নতুন দল এনসিপি-র জন্য এই নির্বাচন ছিল এক বড় অগ্নিপরীক্ষা। বিশেষ করে পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপি-র অন্যতম শীর্ষ নেতা সারজিস আলমের অংশগ্রহণ এই লড়াইকে এক অন্য মাত্রা দিয়েছিল। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর থেকেই পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে শুরু করে। এনসিপি-র অভিযোগ, নির্বাচনের পর তাদের নেতা-কর্মীদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, এনসিপি পরাজয় মেনে নিতে না পেরে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে।

ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে পঞ্চগড়ের এই সংঘর্ষ বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ছাত্র আন্দোলনের হাত ধরে ক্ষমতায় আসা ‘জেনারেশন জেড’-এর রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং বিএনপির মতো দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত শক্তির মধ্যে ক্ষমতার এই লড়াই এখন রাজপথে। চাঁদাবাজি, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি নিয়ে দুই দলের মধ্যে ক্রমাগত কাদা ছোড়াছুড়ি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মুরাদনগরের পর পঞ্চগড়ের এই হিংসা প্রমাণ করছে যে, বাংলাদেশে বিরোধী শিবিরের ভাঙন এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস আগামী দিনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখনও পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া না গেলেও, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।