পাক স্পিন-জালে দিশেহারা সূর্যরা, ভারতের মান বাঁচালেন রেকর্ডগড়া ‘পকেট ডিনামাইট’ ঈশান কিষাণ!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহারণে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই স্নায়ুর লড়াই। কলম্বোর আর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে রবিবার সেই উত্তেজনার পারদ চড়ল অন্য উচ্চতায়। টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েই এক মাস্টারস্ট্রোক খেলেন পাক অধিনায়ক সলমন আলি আঘা। প্রথাগত পেস আক্রমণের বদলে নিজে নতুন বলে ইনিংস শুরু করে প্রথম ওভারেই প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান ভারতের মারকুটে ওপেনার অভিষেক শর্মাকে। পেটের সংক্রমণ কাটিয়ে দলে ফিরলেও শূন্য রানে আউট হয়ে হতাশ করেন অভিষেক। অবাক করার মতো বিষয় হলো, গত ছয় ইনিংসে এটি তাঁর চতুর্থ শূন্য।

এরপরই শুরু হয় পাকিস্তানের সেই ‘অভিনব অস্ত্র’ প্রয়োগের পালা। ক্রিকেটের ইতিহাসে বিরলতম দৃশ্য উপহার দিয়ে পাকিস্তান এদিন মোট ছয়জন স্পিনারকে ব্যবহার করে। উসমান তারিক তো ছিলেনই, তাঁর সঙ্গে পাক অধিনায়ক যেভাবে স্পিন বিভাগকে সাজিয়েছিলেন, তাতে নাস্তানাবুদ হতে হয় ভারতীয় মিডল অর্ডারকে। নেটে উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন নকল করে প্রস্তুতি নিলেও, মাঠে নেমে সেই তারিকের জালেই ধরা দিলেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (২৯ বলে ৩২)। তিলক বর্মার মন্থর ব্যাটিং (২৪ বলে ২৫) ভারতের রান তোলার গতিকে কিছুটা স্তিমিত করে দিয়েছিল।

তবে এই কঠিন পিচেও ঝোড়ো মেজাজে ধরা দিলেন ঈশান কিষাণ। রবি শাস্ত্রীর ভাষায়, “ঈশান যখন ব্যাট করছিল, মনে হচ্ছিল ও অন্য পিচে খেলছে।” মাত্র ২৭ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করে ঈশান ভেঙে দেন ২০১২ সালে গড়া যুবরাজ সিংয়ের রেকর্ড। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি হাফসেঞ্চুরির মালিক এখন ঈশান। শেষ পর্যন্ত ৪০ বলে ৭৭ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলে ভারতকে চালকের আসনে বসান তিনি। শেষ বেলায় শিবম দুবে (১৭ বলে ২৭) এবং রিঙ্কু সিংয়ের (৪ বলে ১১) ক্যামিওতে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৭৫/৭ রান সংগ্রহ করে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এটিই ভারতের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। এখন দেখার, এই পুঁজি নিয়ে ভারতীয় বোলাররা পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে কতটুকু চাপে রাখতে পারেন।