জমিরও আধার কার্ড! এবার প্রতি প্লটে থাকছে ১৪ সংখ্যার ইউনিক নম্বর, বড় ঘোষণা কেন্দ্রের

ভারত সরকারের ডিজিটাল ইন্ডিয়া মিশনে এক অভাবনীয় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় ভূমি সম্পদ বিভাগ। আধার কার্ডের মাধ্যমে যেমন একজন নাগরিকের পরিচয় নির্ধারিত হয়, ঠিক তেমনই এবার প্রতিটি জমির টুকরো বা প্লটের জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচয়পত্র তৈরি করা হচ্ছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভু-আধার’ (Bhu-Aadhaar)। এই প্রকল্পের অধীনে দেশের প্রতিটি আবাদি ও অনাবাদি জমিকে ১৪ সংখ্যার একটি ইউনিক ল্যান্ড পার্সেল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ULPIN) প্রদান করা হবে।

কী এই ভু-আধার এবং কেন এটি প্রয়োজন? বর্তমানে জমি কেনাবেচা বা মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে জালিয়াতি এবং আইনি জটিলতা ভারতের অন্যতম বড় সমস্যা। অনেক সময় এক জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয় বা সরকারি খতিয়ানে গরমিল থাকে। ভু-আধার এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসেবে কাজ করবে। এটি মূলত জমির ভৌগোলিক অবস্থান বা কোঅর্ডিনেটস (Latitude and Longitude)-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। ফলে একটি নির্দিষ্ট প্লটের নম্বর অন্য কোনো প্লটের সঙ্গে মিলবে না।

কিভাবে কাজ করবে এই সিস্টেম? ১. ডিজিটাল ম্যাপ: ড্রোন সার্ভে এবং স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে প্রতিটি জমির সীমানা নির্ধারণ করা হবে। ২. ইউনিক আইডি: প্রতিটি জমির খতিয়ানের বিপরীতে একটি ১৪-অঙ্কের আলফানিউমেরিক কোড জেনারেট করা হবে। ৩. আধার লিঙ্কিং: জমির মালিকের নিজস্ব আধার কার্ডের সঙ্গে এই ভু-আধার লিঙ্ক করা হবে, যাতে মালিকানা নিয়ে কোনো সংশয় না থাকে।

সাধারণ মানুষের সুবিধা: এই ব্যবস্থা চালু হলে জমি মিউটেশন বা নামপত্তন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ হয়ে যাবে। সরকারি ভর্তুকি, পিএম কিষাণ নিধির টাকা বা কৃষি ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভর করতে হবে না। এছাড়াও, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় স্বচ্ছতা আসবে এবং আদালতের দীর্ঘমেয়াদি জমি বিবাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি কোণায় এই ভু-আধার পৌঁছে দেওয়া, যাতে গ্রামীণ এবং শহুরে—উভয় অঞ্চলের জমি ব্যবস্থাপনায় বিপ্লব আনা যায়।