নবান্ন দখলে গেরুয়া ঝড়? এক্সক্লুসিভ সমীক্ষায় ১৩৫-১৫০ আসন পাচ্ছে BJP, কাঁপছে তৃণমূলের দুর্গ!

২০২৬-এর মহাযুদ্ধের দামামা বাজার আগেই বঙ্গ রাজনীতিতে আছড়ে পড়ল এক মহাবিস্ফোরক সমীক্ষা রিপোর্ট। নবান্ন কি এবার হাতছাড়া হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের? বিজেপির অন্দরমহল থেকে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে তৈরি একটি সাম্প্রতিক সার্ভে রিপোর্ট বলছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ১৩৫ থেকে ১৫০টি আসন পেতে পারে গেরুয়া শিবির। অর্থাৎ, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ স্পর্শ করা এখন বিজেপির কাছে সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ (SIR) শেষ হলেই ২৮ ফেব্রুয়ারির পর যে কোনও দিন ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতে পারে। তার আগেই এই সমীক্ষা রিপোর্ট ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বিজেপি সূত্রের দাবি, গত ৫-৬ মাস ধরে উত্তরবঙ্গের পাহাড় থেকে দক্ষিণবঙ্গের দিঘা পর্যন্ত সমীক্ষা চালিয়েছে একাধিক পেশাদার সংস্থা। সেই রিপোর্টেই দেখা যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এবং মেরুকরণের সমীকরণে এবার অ্যাডভান্টেজ পজিশনে রয়েছে বিজেপি।
তবে সমীক্ষার এই সাফল্যের পরিসংখ্যান নিয়ে এখনই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নারাজ বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। কারণ, ২০২১-এর বিধানসভা এবং ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগেও একইরকম ‘হাওয়া’ দেখা গিয়েছিল, কিন্তু ফলপ্রকাশের পর দেখা যায় বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। ২০২১-এ ৭৭টি আসন পেলেও পরবর্তীতে দলবদল ও উপনির্বাচনে বিজেপির শক্তিক্ষয় হয়েছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি আলাদা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন ধরাতে হুমায়ুন কবীর বা নওশাদ সিদ্দিকীর মতো ফ্যাক্টরগুলি বিজেপির জয়ের পথ প্রশস্ত করতে পারে। তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ইতিমধ্যেই বিজেপিকে জোট বার্তা দিয়ে রেখেছেন। যদি সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হয়ে যায়, তবে তার সরাসরি সুবিধা পাবে গেরুয়া শিবির। সব মিলিয়ে এই সমীক্ষা রিপোর্ট যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর বাংলায় পালাবদল এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।