ভারত-পাক মহারণের আগে পাক ডাগআউটে ‘সর্পদেবতা’! কলম্বোয় হাড়হিম করা ভিডিও ভাইরাল

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হওয়ার ঠিক আগে পাকিস্তান শিবিরে দেখা দিল এক চরম আতঙ্ক। তবে এবারের ভয় কোনো বোলার বা ব্যাটসম্যানকে নিয়ে নয়, সরাসরি ডাগআউটে ‘সর্পদেবতার’ অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে। কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে যখন সলমন আলি আগার নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দল অনুশীলনে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ডাগআউটের ভেতর একটি সাপ ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে সেই দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে ক্রিকেট বিশ্বে।

কলম্বোয় গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং বৃষ্টির কারণেই জঙ্গল থেকে সাপটি স্টেডিয়ামের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে এসেছিল। কিন্তু ভারত-পাক মহারণের মতো বড় ম্যাচের আগে এই ঘটনাকে অনেকেই ‘অশুভ’ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। যদিও পাক ক্রিকেটাররা বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও, ভিডিওতে তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ ধরা পড়েছে। সুপার এইটে টিকে থাকার লড়াইয়ে যখন বাবর আজমদের জন্য প্রতিটি রান মহামূল্যবান, তখন ডাগআউটে এমন অনাহূত অতিথির আগমন দলের মনঃসংযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে, পাক শিবিরের এই অস্থিরতার মাঝেই ভারতীয় শিবিরে বইছে স্বস্তির হাওয়া। টিম ইন্ডিয়ার তরুণ তুর্কি অভিষেক শর্মাকে নিয়ে যে দুশ্চিন্তা ছিল, তা শনিবারের নেট সেশনের পর অনেকটাই কেটে গিয়েছে। পেটের সমস্যার কারণে দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে, যার ফলে নামিবিয়া ম্যাচে তিনি মাঠে নামতে পারেননি। রবিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর খেলা নিয়ে সংশয় তৈরি হলেও, শনিবারের প্র্যাকটিস সেশন অন্য কথা বলছে।

প্রেমদাসা স্টেডিয়ামের নেটে অভিষেককে দেখা গেল চেনা ছন্দে। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে তিনি কুলদীপ যাদব এবং বরুণ চক্রবর্তীর মতো মিস্ট্রি স্পিনারদের অবলীলায় বাউন্ডারির বাইরে পাঠালেন। বৃষ্টির কারণে ভারতীয় দলকে ইনডোর নেটে অনুশীলন করতে হলেও অভিষেকের ব্যাটে কোনো জড়তা ছিল না। কোচিং স্টাফদের মুখেও চওড়া হাসি দেখা গিয়েছে তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং দেখে। বিশেষ করে পাকিস্তানের স্পিনার উসমান তারিকের মোকাবিলা করতে অভিষেক যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, তা তাঁর শরীরী ভাষাতেই স্পষ্ট।

ভারত-পাক ম্যাচ মানেই স্নায়ুর লড়াই। একদিকে ডাগআউটে সাপের আতঙ্ক আর অন্যদিকে ভারতীয় শিবিরের বিধ্বংসী মেজাজ—সব মিলিয়ে রবিবারের মহারণের পারদ এখন তুঙ্গে। পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণকে অভিষেক কীভাবে সামলান এবং পাক বাহিনী এই মানসিক ধাক্কা কাটিয়ে মাঠে কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।