শহরে অকাল দিওয়ালি! মহাশিবরাত্রিতে আলোয় সেজে উঠল শ্রী আদি ভূতনাথ মন্দির, ভক্তের ঢল মাঝরাত থেকেই!

তিলোত্তমার বুকে আজ ভক্তির মহা-উৎসব। মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে সেজে উঠেছে কলকাতার অন্যতম প্রাচীন ও জাগ্রত তীর্থস্থান ‘শ্রী আদি ভূতনাথ মন্দির’। ফাল্গুন মাসের এই পবিত্র তিথিতে দেবাদিদেব মহাদেবের আশীর্বাদ পেতে ভোররাত থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে তিল ধারণের জায়গা নেই। উত্তর কলকাতার নিমতলা সংলগ্ন এই মন্দির চত্বর এখন আক্ষরিক অর্থেই একখণ্ড বারাণসী।
ভক্তির মহাপ্লাবন: শনিবার মাঝরাত থেকেই মন্দিরের সামনে ভক্তদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে। হাতে ঘটি, গঙ্গাজল, বেলপাতা আর ধুতুরা ফুল নিয়ে হাজার হাজার পুণ্যার্থী অপেক্ষা করছেন মহাদেবের মাথায় জল ঢালতে। ‘বম বম ভোলে’ এবং ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে গঙ্গার তীরবর্তী এই এলাকা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের ভিড় সামাল দিতে মন্দির কর্তৃপক্ষ ও কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং সিসিটিভি-র মাধ্যমে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
** আলোকসজ্জায় মায়াবী রূপ:** মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে শ্রী আদি ভূতনাথ মন্দিরকে অপূর্ব আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে। মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে শুরু করে চারপাশ—সবই এখন বর্ণময় আলোয় ঝলমল করছে। বিশেষ পুজোর পাশাপাশি দিনভর চলবে মহাদেবের বিশেষ আরতি এবং ভজন। ভক্তদের বিশ্বাস, এই বিশেষ দিনে নিষ্ঠাভরে ভূতনাথের কাছে মানত করলে সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ হয়। তাই কড়া রোদ উপেক্ষা করেই লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছেন আট থেকে আশি—সব বয়সের মানুষ। কেবল জল ঢালাই নয়, শিবরাত্রির উপবাস ভঙ্গ করার আগে শিবলিঙ্গ স্পর্শ করে প্রণাম করার আকুতি ধরা পড়ল সাধারণ মানুষের চোখেমুখে।