“সস্তা হবে তেল আর আমেরিকার উন্নত প্রযুক্তি”-বড় ঘোষণা করলেন পীযূষ গোয়েল

ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্যিক সমীকরণে এবার বড়সড় মোড়। কেবল কূটনৈতিক ফাইলবন্দি চুক্তি নয়, দুই দেশের এই বন্ধুত্ব এবার সরাসরি প্রভাব ফেলতে চলেছে সাধারণ মানুষের হেঁশেল থেকে শুরু করে বড় শিল্পক্ষেত্রগুলিতে। শনিবার কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল ঘোষণা করেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে অন্যতম চালিকাশক্তি হবে আমেরিকার সস্তা তেল এবং উন্নত প্রযুক্তি।
হেঁশেলে স্বস্তি: সস্তা হবে তেল ও এলপিজি
এই অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির ফলে আমেরিকা থেকে অপরিশোধিত তেল, এলএনজি (LNG) এবং এলপিজি (LPG) আরও কম দামে আমদানি করার পথ প্রশস্ত হলো। বর্তমানে ভারতের বার্ষিক শক্তির চাহিদা ৭ শতাংশ হারে বাড়ছে। আমেরিকা থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে জ্বালানি এলে দেশের বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকার পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের খরচও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রপ্তানিকারকদের জন্য খুশির খবর
ভারতীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আমেরিকা বড় ছাড়ের ঘোষণা করেছে। ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আগে ছিল ৫০ শতাংশ, যা একধাক্কায় কমিয়ে ১৮ শতাংশে নিয়ে আসা হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় পোশাক, চর্মজাত পণ্য এবং ইঞ্জিনিয়ারিং সরঞ্জাম মার্কিন বাজারে আরও সস্তায় মিলবে, যা রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
ইস্পাত ও আইটি ক্ষেত্রে ‘ম্যাজিক’
-
ইস্পাত শিল্প: বছরে ১৪ কোটি টন ইস্পাত উৎপাদনকে দ্বিগুণ করতে প্রয়োজন বিপুল ‘কোকিং কোল’। এতকাল কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভর করে দেড় লক্ষ কোটি টাকা খরচ করতে হতো। এবার আমেরিকার সঙ্গে এই জোট সেই খরচ কমিয়ে কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
-
আইটি সেক্টর: বর্তমানে ১৮ লক্ষ কোটি টাকার আইটি রপ্তানিকে ৪৫ লক্ষ কোটিতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র। এক্ষেত্রে আমেরিকার উন্নত ডেটা সেন্টার প্রযুক্তি আর ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম হবে ভারতের প্রধান হাতিয়ার।
বিনিময়ে কী পেল আমেরিকা?
বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে ভারতও আমেরিকান শিল্পপণ্য, কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ওপর থেকে শুল্কের বোঝা কমিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে দুই দেশের বাজারই একে অপরের জন্য আরও উন্মুক্ত হলো। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওয়াশিংটন আর দিল্লির এই নয়া রসায়ন বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্রে ভারতকে এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত করবে।