বোলপুরে অজয় নদের চরে বিকট বিস্ফোরণ! নিষ্ক্রিয় করা হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মার্কিন মর্টার!

শান্তিনিকেতনের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা অজয় নদের চরে শনিবার সকালে শোনা গেল বিকট শব্দ। কেঁপে উঠল আশপাশের এলাকা। তবে এটি কোনো নাশকতামূলক ঘটনা নয়, বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার এক শক্তিশালী মর্টারকে সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করল ভারতীয় সেনাবাহিনী। বোলপুর থানার পুলিশের সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর আট সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল এই বিপজ্জনক অপারেশনটি সম্পন্ন করে।

বিস্ফোরণের সেই মুহূর্ত: এদিন সকালে বীরভূমের বোলপুর সংলগ্ন সিঙ্গি গ্রাম পঞ্চায়েতের লাউদহ এবং জাহানাবাদ এলাকার মাঝামাঝি অজয় নদের চরে এই অপারেশন চালানো হয়। গত বছরের ২৪ অক্টোবর নদের চর থেকে ২৪০ কেজি ওজনের এই মর্টারটি উদ্ধার হয়েছিল। নিরাপত্তার খাতিরে এতদিন পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রেখেছিল। এদিন ক্রেন দিয়ে বিশাল গর্ত খুঁড়ে মর্টারটিকে মাটির গভীরে পোঁতা হয় এবং প্রচুর বালি দিয়ে চাপা দেওয়া হয়। এরপর রিমোটের সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটানো হলে প্রায় ৮০ বছরের পুরনো মর্টারটি ধ্বংস হয়ে যায়। আশ্চর্যের বিষয়, এত বছর পরও বিস্ফোরণের তীব্রতা ছিল ভয়াবহ, যা থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মারণাস্ত্রের শক্তি আঁচ করা যায়।

কেন বারবার অজয় নদে মিলছে মর্টার? ইতিহাস বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পশ্চিম বর্ধমানের পানাগড়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি বড় বায়ুসেনা ঘাঁটি ছিল। এছাড়া ১৯৪২ সালে পূর্ব বর্ধমানের গুসকরায় ‘ওরগ্রাম বায়ুসেনা’ ঘাঁটি এবং বোলপুরের কালিকাপুরে জরুরি ল্যান্ডিং স্ট্রিপ তৈরি করেছিল মার্কিন বাহিনী। সেই সময় যুদ্ধবিমানগুলো যখন বর্মা (বর্তমানে মায়ানমার) সীমান্তে অভিযানের জন্য যেত, তখন অনেক সময় মিশন স্থগিত হলে এই ভারী মর্টার বা ক্লাস্টার বোমা নিয়ে নামা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। অবতরণের সময় বিস্ফোরণ এড়াতে যুদ্ধবিমান থেকে এই ভারী বোমাগুলো অজয় নদের অগভীর জলে ফেলে দেওয়া হতো।

নদের গতিপথ পরিবর্তন এবং চর জেগে ওঠার ফলে এখন মাটির তলা থেকে সেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা এম-২৯ ক্লাস্টার মর্টারগুলো বেরিয়ে আসছে। গত বছর ১২ সেপ্টেম্বরও একই এলাকা থেকে একটি মর্টার উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল। এদিনের এই রোমহর্ষক ঘটনা চাক্ষুষ করতে নদীর পাড়ে শয়ে শয়ে মানুষ ভিড় জমান। তবে পুলিশ ও সেনা জওয়ানরা নিরাপত্তার খাতিরে উৎসুক জনতাকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেয়।