সংসারের গণ্ডি পেরিয়ে ‘সিঁদুর-বিপ্লব’! মৌসুমি এখন গ্রামের ২০ জন মহিলার অন্নদাত্রী

ব্যবসায়ী পরিবারের বৌমা হয়েও মনে জেদ ছিল নিজের পরিচয় গড়ার। কেবল নিজে বাঁচা নয়, অন্য মহিলাদেরও মাথা উঁচু করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাতেন তিনি। আজ সেই স্বপ্নই বাস্তব করে দেখিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা ব্লকের ভালুককুণ্ডু গ্রামের মৌসুমি ঘোষ। বর্তমানে তাঁর তৈরি আলতা ও সিঁদুর জেলা ছাড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে।
শূন্য থেকে শুরু: অদম্য লড়াইয়ের গল্প
মৌসুমি প্রথমে ১০ জন স্থানীয় মহিলাকে নিয়ে একটি স্বনির্ভর দল গঠন করেন। এরপর সরকারি উদ্যোগে আলতা ও সিঁদুর তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়ে খুব ছোট পরিসরে কাজ শুরু করেন। পরিশ্রম আর গুণমানের জোরে দ্রুত বাড়তে থাকে চাহিদা। মৌসুমি জানান:
“ছোটো করে শুরু করলেও এখন আমাদের আলতা-সিঁদুর রাজ্যের বহু জেলায় যাচ্ছে। পাশাপাশি আমরা এখন ফিনাইলও তৈরি করছি। বর্তমানে আমার মাসিক আয় প্রায় ৬০ হাজার টাকা।”
২০ জনের মুখে অন্ন জোগাচ্ছেন মৌসুমি
মৌসুমি একা নন, তাঁর এই ব্যবসায় যুক্ত হয়ে কাজ পেয়েছেন গ্রামের আরও ২০ জন মহিলা। দলের সদস্যদের প্রত্যেকে মাসে প্রায় ৫ হাজার টাকা করে বাড়তি রোজগার করছেন। মৌসুমির দলের সদস্য শম্পা সর্দার বলেন, “আগে সব কিছুর জন্য স্বামীর ওপর নির্ভর করতে হতো। দিদি (মৌসুমি) আমাদের হাতে কাজ তুলে দেওয়ায় এখন আমরা নিজেদের খরচ নিজেই চালাতে পারি।”
প্রশাসনের স্বীকৃতি ও সাফল্যের খতিয়ান
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বনির্ভর দল গঠন ও কাজের নিরিখে রাজ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে। জেলা মিশন প্রোজেক্ট ডিরেক্টর গোবিন্দ হালদার মৌসুমির দলের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি জানান, ‘ভালুককুণ্ডু জগৎ রায়’ স্বনির্ভর গোষ্ঠী নিয়মিত ব্যাঙ্ক লোন পরিশোধ করে ব্যবসার পরিধি বাড়াচ্ছে। প্রশাসন মৌসুমির এই মডেলকে অন্যান্য দলের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছে।