ডাক্তারি ছাত্রের রহস্যমৃত্যু দুর্গাপুরে, খুন না আত্মহত্যা? উঠছে প্রশ্ন

ওড়িশার ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে গত বছরই শিরোনামে এসেছিল দুর্গাপুরের এই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বড়সড় অঘটন। শনিবার রাতে কলেজের হোস্টেল থেকে উদ্ধার হলো প্রথম বর্ষের এমবিবিএস (MBBS) ছাত্র লাবণ্য প্রতাপের (২২) ঝুলন্ত দেহ। মৃত ছাত্র বিহারের পাটনার বাসিন্দা।
রহস্যময় নীরবতা ও বাবার অভিযোগ
ছেলের মৃত্যুর খবর কলেজ থেকে পাননি বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন লাবণ্যর বাবা অনিল কুমার। তিনি জানান, ছেলে ফোন না ধরায় বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। বন্ধুরা রুমের দরজা ভেঙে লাবণ্যকে ঝুলন্ত অবস্থায় পায়। অনিল কুমারের অভিযোগ:
“কলেজ কর্তৃপক্ষ দীর্ঘক্ষণ তথ্য গোপন করে রেখেছিল। বাইরে থেকে আসা শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব, যা পালনে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ।”
নম্বর নিয়ে কারচুপি? অধ্যাপকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
লাবণ্যর বাবার দাবি, সাম্প্রতিক পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন তাঁর ছেলে। তিনি অভিযোগ করেন, লাবণ্য লিখিত পরীক্ষায় ৫০ নম্বর পেলেও প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় তাকে মাত্র ৫ নম্বর দেওয়া হয়েছিল। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে লাবণ্য পুনর্মূল্যায়নের (Re-evaluation) আবেদনও জানিয়েছিলেন। আগামী ১৯ মার্চ তাঁর পরবর্তী পরীক্ষা ছিল। বাবার সরাসরি অভিযোগ, কলেজের অধ্যাপকরা লাবণ্যর সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছেন, যা তাঁকে চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
তদন্তে পুলিশ: মুখে কুলুপ সহপাঠীদের
ঘটনার পর থেকে সহপাঠীরা সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে নারাজ। দুর্গাপুর পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (পূর্ব) অভিষেক গুপ্ত জানিয়েছেন, পরিবারের বয়ান রেকর্ড করার পর তদন্তের গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হবে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে ইমেলের মাধ্যমে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পুলিশ পড়াশোনার চাপ, ব্যক্তিগত জীবন এবং নম্বর সংক্রান্ত বিবাদ— সব দিকই খতিয়ে দেখছে।