প্যাকেটবন্দি দুধে বিষ? নামী ব্র্যান্ডের দুধে মিলল মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার হদিস!

সুস্থ থাকতে এক গ্লাস দুধের কোনো বিকল্প নেই— ছোটবেলা থেকেই আমাদের এমনটাই শেখানো হয়। কিন্তু সেই দুধই কি এখন অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে? সম্প্রতি ‘ট্রাস্টিফায়েড’ (Trustified) নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ল্যাব রিপোর্টে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা দেখে কার্যত চক্ষু চড়কগাছ সাধারণ মানুষের। রিপোর্ট বলছে, বাজারের একাধিক নামজাদা কোম্পানির প্যাকেটবন্দি দুধে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার (Coliform Bacteria) অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে।

ল্যাব রিপোর্টে শিউরে ওঠা তথ্য

সংস্থাটি কোনো পক্ষপাতিত্ব এড়াতে ‘ব্লাইন্ড টেস্ট’ (সংস্থার নাম গোপন রেখে কোড নম্বরের মাধ্যমে পরীক্ষা) পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। পরীক্ষার ফল বলছে:

  • সর্বাধিক বিক্রিত টোনড ও ফুল ক্রিম মিল্ক: ফুড সেফটি স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)-এর নিয়ম অনুযায়ী এই ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা ১০-এর নিচে থাকা উচিত। কিন্তু রিপোর্টে দেখা গিয়েছে এই মান ৯৮০ cfu/ml-এ পৌঁছেছে!

  • অ্যাপ-নির্ভর দুধ সরবরাহকারী: বাড়িতে সরাসরি দুধ পৌঁছে দেয় এমন একটি জনপ্রিয় অ্যাপ-সংস্থার গরুর দুধেও কলিফর্মের মাত্রা নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ।

  • অন্যান্য ব্র্যান্ড: অন্য একটি নামী সংস্থার দুধে ব্যাকটেরিয়ার কাউন্ট স্বাভাবিকের চেয়ে আট গুণ বেশি।

কেন এই কলিফর্ম ভীতি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার এই বিপুল উপস্থিতি নির্দেশ করে যে দুধ প্রসেসিং বা প্যাকেজিংয়ের সময় পরিচ্ছন্নতায় (Sanitation) মারাত্মক গলদ ছিল। এই দুধ খেলে পেটের গোলমাল, ডায়েরিয়া বা জ্বরের মতো সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই দুধ বিপজ্জনক হতে পারে।

পাল্টা দাবি সংস্থাগুলির

এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দুধ বিপণনকারী সংস্থাগুলি। তাদের দাবি, দুধ বাজারজাত করার আগে প্রায় ৫০টি কোয়ালিটি টেস্ট পার করে। নমুনা সংগ্রহ বা সংরক্ষণে কোনো ভুল থাকলে ল্যাব রিপোর্টে ভুল ফল আসা স্বাভাবিক। মানুষকে আতঙ্কিত করতেই এই ধরনের ‘ভিত্তিহীন’ তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে পাল্টা দাবি তাদের।

দুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পানীয় নিয়ে এই বিতর্ক এখন সাধারণ মানুষের হেঁশেলে চিন্তার মেঘ ঘনিয়েছে। রিপোর্ট এবং পাল্টা দাবির মাঝে ধোঁয়াশা কাটবে কবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আম জনতা।