৫ বছরে রিটার্ন ০%, TCS-এর শেয়ারের অবস্থা খারাপ, দাম কি আরওপড়বে?

ভারতের আইটি সেক্টরের মুকুটহীন সম্রাট টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস বা TCS-এর অবস্থা এখন শোচনীয়। লার্জক্যাপ এই স্টকের ওপর ভরসা করে যাঁরা বিনিয়োগ করেছিলেন, তাঁদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে শুক্রবারের বাজার। একসময়ের অপ্রতিরোধ্য এই শেয়ারটি এখন ৫ বছর আগের দামে ফিরে গিয়েছে।

৪৫৯২ থেকে ২৫৮৫: ৪৪ শতাংশ পতন

২০২৪ সালের অগাস্ট মাসেই টিসিএস-এর শেয়ার ছুঁয়েছিল ৪৫৯২ টাকার রেকর্ড উচ্চতা। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসেই সেই শেয়ারের দাম ৪৪ শতাংশ পড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৫৮৫ টাকায়। এর ফলে সংস্থার মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন কমে দাঁড়িয়েছে ৯.৬০ লক্ষ কোটি টাকা। বাজার মূলধনের নিরিখে চতুর্থ স্থান থেকে ষষ্ঠ স্থানে নেমে গিয়েছে টাটাদের এই সোনার হাঁস।

৫ বছরে কোনো লাভ নেই!

শুক্রবার পতনের পর টিসিএস-এর শেয়ারের দাম এখন ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসের দরে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, গত ৫ বছর ধরে এই শেয়ারটি যাঁরা ধরে রেখেছেন, তাঁদের রিটার্ন এখন শূন্য বা ‘জিরো রিটার্ন’। শুধু টিসিএস নয়, ইনফোসিস এবং উইপ্রোর মতো সংস্থাও এডিআর (ADR) ১০ শতাংশ পড়ে যাওয়ায় বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে।

কেন এই ভরাডুবি? নেপথ্যে কি AI?

আইটি সেক্টরের এই সংকটের মূলে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর দাপট।

  • এআই বনাম আইটি: এআই সংস্থা ‘অ্যানথ্রোপিক’ দাবি করেছে যে চিরাচরিত আইটি কোম্পানিগুলি অনেক বেশি টাকা নেয় এবং কাজ করতেও সময় নেয় বেশি।

  • অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ: ডেটা অ্যানালিটিক্স বা কাস্টমার সাপোর্টের মতো কাজগুলো এখন এআই অনায়াসেই করে দিচ্ছে। ফলে আইটি সংস্থাগুলির দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক মডেলে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সেনসেক্স ও নিফটির ব্যাপক পতনে লগ্নিকারীদের প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা বাজার থেকে ধুয়ে মুছে গিয়েছে। নিফটি ৩৩৬ পয়েন্ট এবং সেনসেক্স ৮২৬০০ পয়েন্টে নেমে আসায় ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে দালাল স্ট্রিটে।