তুলো নিয়ে কী ‘খেলা’ চলছে? বাংলাদেশ টেনে কেন্দ্রকে টার্গেট করলেন রাহুল গান্ধী

ভারত-মার্কিন নতুন বাণিজ্য চুক্তি (US-India Trade Deal) নিয়ে এবার রণংদেহি মেজাজে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘অদূরদর্শী’ নীতির কারণে ভারতের লাভজনক টেক্সটাইল শিল্প ও কোটি কোটি তুলা চাষি চরম সংকটের মুখে পড়তে চলেছেন। উল্টোদিকে, ভারতের বাজার নষ্ট করে লাভবান হবে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ।

কী এই শুল্ক বিতর্ক? রাহুল গান্ধীর দাবি, নতুন চুক্তিতে এক অদ্ভুত ‘ফাঁদ’ তৈরি করা হয়েছে।

  • শুল্কের বোঝা: বর্তমানে আমেরিকায় ভারতের তৈরি পোশাক রফতানি করতে হলে ১৮ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।

  • বাংলাদেশের সুবিধা: অন্যদিকে, বাংলাদেশ যদি আমেরিকা থেকে তুলা আমদানি করে পোশাক তৈরি করে, তবে আমেরিকায় রফতানির সময় তাদের কোনো শুল্ক দিতে হয় না।

  • কেন্দ্রের যুক্তি ও রাহুলের পাল্টা: রাহুল জানান, সরকারের তরফে বলা হয়েছে ভারতও একই সুবিধা পেতে পারে, যদি ভারত নিজের তুলা ব্যবহার না করে আমেরিকা থেকে তুলা আমদানি করে। রাহুল প্রশ্ন তুলেছেন, ভারত যদি আমেরিকা থেকে তুলা কেনে, তবে এদেশের লক্ষ লক্ষ তুলা চাষি কোথায় যাবেন? তাঁদের উৎপাদিত তুলা কে কিনবে?

সংকটে টেক্সটাইল ও কৃষি: রাহুল গান্ধীর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই নীতিতে দুই দিক দিয়েই ভারত হারবে: ১. কৃষির ক্ষতি: মার্কিন তুলা আমদানির শর্ত মানলে ভারতীয় চাষিরা ক্রেতা হারাবেন এবং তাঁদের রুজিরুটি টান পড়বে। ২. শিল্পের ক্ষতি: আর যদি ভারতীয় তুলা ব্যবহার করা হয়, তবে ১৮ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের কারণে বিশ্ববাজারে ভারতের পোশাকের দাম বেড়ে যাবে। ফলে সস্তা পোশাক রফতানি করে বাজার দখল করে নেবে বাংলাদেশ।

বেকারত্ব বৃদ্ধির আশঙ্কা: রাহুল গান্ধী লোকসভায় দাঁড়িয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ভারতের টেক্সটাইল সেক্টরের সঙ্গে কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। এই শিল্প মার খেলে সরাসরি প্রভাব পড়বে চাকরির বাজারে। তাঁর অভিযোগ, এই চুক্তি পুরোপুরি আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করছে এবং মোদী সরকার দেশের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করছে।

বাংলাদেশের সমীকরণ: রাহুল আরও মনে করিয়ে দেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ভারত থেকে প্রচুর তুলা আমদানি করে। কিন্তু এই নতুন মার্কিন নীতির ফলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে ভারত থেকে তুলা কেনা কমিয়ে দিলে কৃষি ও শিল্প উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধাক্কা খাবে ভারত।

বিরোধী দলনেতার এই ভিডিও বার্তা এবং সংসদে দেওয়া বক্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার, বিজেপি সরকার এই ‘ট্যারিফ যুদ্ধ’ নিয়ে রাহুলের তোলা প্রশ্নের কী উত্তর দেয়।