“দেহের দিকে তাকানো যাচ্ছে না!” পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুতে গর্জে উঠলেন অভিষেক, দুই ভাইয়ের চাকরির আশ্বাস

বান্দোয়ানের প্রত্যন্ত গ্রামে শোকের ছায়া। মহারাষ্ট্রের পুণেতে কাজ করতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে বাংলার ভূমিপুত্র সুখেন মাহাতোর। শুক্রবার সেই মৃত শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছে গেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই মহারাষ্ট্র পুলিশ ও কেন্দ্র সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন তিনি।

“দেহের দিকে তাকানো যাচ্ছে না”
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিষেক। তিনি জানান, ২০০৯ সাল থেকে কর্মরত সুখেনের দেহ দেখে তাঁর দাদাও ভেঙে পড়েছেন। অভিষেক বলেন, “পরের দিন পুলিশ জানায় চোট লেগেছে, কিন্তু গিয়ে দেখা যায় সব শেষ। আমি রাজনীতি করতে আসিনি, কিন্তু এই ঘটনার বিচার চাই। অভিযুক্ত যেই হোক, তার কঠোরতম শাস্তি হতে হবে।”

বিজেপি শাসিত রাজ্যকে খোলা চ্যালেঞ্জ
মহারাষ্ট্র পুলিশের তদন্ত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে অভিষেক সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছোঁড়েন। তিনি বলেন:

তদন্তের দায়িত্ব: “মহারাষ্ট্র পুলিশ যদি দোষীদের ধরতে না পারে, তবে কেস বাংলায় পাঠিয়ে দিক। আমরা ৫০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিয়ে দেখাব।”

বিজেপি সাংসদকে বিঁধলেন: পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদকেও এই বিষয়ে তৎপর হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। দেবেন্দ্র ফড়নবিসের সঙ্গে কথা বলে যাতে পরিবার ন্যায়বিচার পায়, সেই দাবি তোলেন অভিষেক।

কর্মসংস্থানের আশ্বাস: শোকাতুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সুখেনের বাকি দুই ভাইকে এ রাজ্যেই কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

দেশ জুড়ে পরিযায়ী সংকট ও বিভাজনের রাজনীতি
কেন্দ্র সরকারকে আক্রমণ করে অভিষেক দাবি করেন, গত ১০ বছরে দেশ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ জীবিকার টানে বাইরে চলে গিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, “দেশের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে। কথায় কথায় মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ বলে দেগে দিয়ে মারধর করা হচ্ছে। এই মানসিকতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।”

শনিবার রাজ্য জুড়ে কর্মসূচি
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে শনিবার রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস মিছিল করবে বলে ঘোষণা করেছেন অভিষেক। দলমত নির্বিশেষে সকলকে এই লড়াইয়ে পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।