ফাঁসির মঞ্চ থেকে সরাসরি সংসদ! বাংলাদেশের ভোটে জিতলেন সাজামুক্ত সেই ৩ বিতর্কিত নেতা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে এক অনন্য নজির গড়লেন তিন হেভিওয়েট নেতা। এক সময় যাদের কপালে ঝুলছিল ফাঁসির দড়ি, আজ তারাই বিপুল জনসমর্থন নিয়ে পা রাখছেন জাতীয় সংসদে। বিএনপি ও জামায়াত শিবিরের এই তিন নেতার জয় নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

১. লুৎফুজ্জামান বাবর: নেত্রকোনার ‘ত্রাস’ থেকে জনপ্রতিনিধি
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর নেত্রকোনা-৪ আসন থেকে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

ফাঁসির ইতিহাস: ২০০৪ সালের ভয়াবহ ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা এবং চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

মুক্তি: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি হাইকোর্ট তাঁকে অস্ত্র মামলায় নির্দোষ ঘোষণা করে। দুই দশক পর কারাগার থেকে মুক্ত হয়েই বাজিমাত করলেন বাবর।

২. আব্দুস সালাম পিন্টু: টাঙ্গাইলে বিপুল জয়
টাঙ্গাইল-২ আসন থেকে প্রায় ২ লাখ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু।

বিতর্ক: গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামি পিন্টুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন ‘হুজি’ (Harkat-ul-Jihad-al-Islami)-কে মদত দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ছিল। উল্লেখ্য, ভারতে একাধিক বিস্ফোরণে এই সংগঠনের হাত থাকার প্রমাণ মিলেছে।

প্রত্যাবর্তন: ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর আদালত তাঁকে সমস্ত অভিযোগ থেকে খালাস দেয়। জেল থেকে বেরোনোর মাস কয়েকের মধ্যেই তিনি সাংসদ নির্বাচিত হলেন।

৩. এটিএম আজহারুল ইসলাম: জামায়াতের ‘জয়ী’ মুখ
জামায়াত নেতা আজহারুল ইসলাম রংপুর-২ আসন থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

অভিযোগ: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১,২৫৬ জনকে হত্যা ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।

টুইস্ট: ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি পালটে যায়। ২০২৫ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে সব যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়।

নির্বাচনী সমীকরণ: জামায়াতের রেকর্ড উত্থান
এবারের নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে জামায়াত-ই-ইসলামি। বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এর আগে কোনো নির্বাচনে এত বেশি আসন পায়নি জামায়াত। ভারত-বিরোধী হিসেবে পরিচিত নেতাদের এই বিপুল জয় আগামী দিনে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।