বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী বাধ্যতামূলক! না মানলেই কড়া দাওয়াই কলকাতা পুরসভার, বাজেটে বড় ঘোষণা

শহরের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড গ্রহণ করা নিয়ে অনীহা দীর্ঘদিনের। সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ মেটাতে এবার এক অভিনব এবং কঠোর ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিল কলকাতা পুরসভা (KMC)। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রস্তাবিত বাজেটে জানানো হয়েছে, যে সমস্ত বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোম বাধ্যতামূলকভাবে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড গ্রহণ করবে, শুধুমাত্র তারাই পুরসভার বিল্ডিং রুলে বিশেষ ছাড় পাবে।
কী এই বিশেষ সুবিধা?
শহরের বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে গত এক দশকে রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অনেক হাসপাতালই তাদের ভবন সম্প্রসারণ বা বেড সংখ্যা বাড়াতে আগ্রহী। পুরসভার নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী:
ফ্লোর এরিয়া ছাড়: যারা স্বাস্থ্যসাথী পরিষেবা দেবে, তারা ভবনের ফ্লোর এরিয়া রেশিও (FAR) বা ফ্লোর বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাড়তি ছাড় পাবে।
বিল্ডিং রুলে শিথিলতা: হাসপাতাল চত্বর বড় করার ক্ষেত্রে বিল্ডিং বিভাগের যে সমস্ত কড়া নিয়ম রয়েছে, তাতে বিশেষ ছাড় মিলবে।
শর্তাধীন সুবিধা: এই সুবিধা পাওয়ার বিনিময়ে ওই হাসপাতালকে স্বাস্থ্যসাথীর মাধ্যমে চিকিৎসা করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা ও পুরসভার পদক্ষেপ
এর আগে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড না নিলে বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই কড়া বার্তাকে আইনি ও প্রশাসনিক ভিত্তি দিতেই পুরসভার এই পদক্ষেপ।
কেন এই উদ্যোগ?
কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের মতে, হাসপাতালগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ দিলে তারা আরও বেশি রোগী পরিষেবা দিতে পারবে। কিন্তু সেই উন্নয়ন যেন সাধারণ মানুষের উপকারে লাগে, তা নিশ্চিত করতেই এই ‘শর্তসাপেক্ষ ছাড়’ (Quid Pro Quo) নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
এডিটরের কথা: স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি হাসপাতালের দরজায় দরজায় ঘোরার দিন হয়তো এবার শেষ হতে চলেছে। পুরসভার এই উদ্যোগ বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে একদিকে যেমন পরিকাঠামো বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্যাশলেস চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত করবে।