বিশেষ: কতক্ষণ থাকবে শিব চতুর্দশী তিথি? জানুন শিবরাত্রির ৪ প্রহরের নিয়ম

সনাতন ধর্মে দেবাদিদেব মহাদেবকে বলা হয় পরমসত্ত্বা। শাস্ত্র মতে, মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয় মহাশিবরাত্রি। বিশ্বাস করা হয়, এই বিশেষ দিনেই দেবী পার্বতীর সঙ্গে শিবের বিয়ে হয়েছিল। আবার পুরাণের অন্য এক জায়গায় বলা হয়েছে, এদিনই শিব বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেছিলেন। অশ্বমেধ যজ্ঞ বা গঙ্গা স্নানের মতোই মাহাত্ম্যপূর্ণ এই ব্রত পালন করলে ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ— এই চতুর্বিধ ফল লাভ হয়।
২০২৬ সালের মহাশিবরাত্রির নির্ঘণ্ট:
এই বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার মহাশিবরাত্রির পুণ্য তিথি পড়েছে।
-
চতুর্দশী তিথি শুরু: ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টে ৪৮ মিনিটে।
-
চতুর্দশী তিথি শেষ: ১৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার সন্ধ্যা ৫টা ৩২ মিনিটে।
-
নিশীথ কাল (শ্রেষ্ঠ সময়): ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫২ মিনিট থেকে ১২টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত।
চার প্রহরের পুজোর সময় ও মন্ত্র:
মহাশিবরাত্রিতে চার প্রহরে পুজোর বিশেষ বিধান রয়েছে। প্রতিটি প্রহরের জন্য আলাদা আলাদা উপকরণ ও মন্ত্র নির্দিষ্ট:
| প্রহর | পুজোর সময় | স্নানের উপকরণ | মন্ত্র |
| প্রথম | সন্ধ্যা ৬:০১ – রাত ৯:০৯ | দুধ | ওঁ হৌঁ ঈশানায় নমঃ |
| দ্বিতীয় | রাত ৯:০৯ – রাত ১২:২৭ | দই | ওঁ হৌঁ অঘোরায় নমঃ |
| তৃতীয় | রাত ১২:১৭ – ভোর ৩:২৫ | ঘি | ওঁ হৌঁ বামদেবায় নমঃ |
| চতুর্থ | ভোর ৩:২৫ – সকাল ৫:৩৪ | মধু | ওঁ হৌঁ সদ্যোজাতায় নমঃ |
ব্রতের নিয়ম ও সতর্কতা:
শিবরাত্রির ব্রত পালনের আগে থেকেই ‘সংযম’ করতে হয়।
-
আগের দিন: আমিষ বা সিদ্ধ চালের ভাত বর্জন করে আতপ চালের হবিষ্যান্ন খাওয়ার নিয়ম।
-
লবণের নিয়ম: সাধারণ লবণের বদলে সন্দক লবণ বা সৈন্ধব লবণ ব্যবহার করতে হয়।
-
উপবাস: পুজোর দিন নির্জলা উপবাস রাখা শ্রেয়, তবে অসমর্থ হলে ফল বা দুধ খাওয়া যেতে পারে।
-
পারন (ব্রত ভঙ্গ): শাস্ত্র মতে, সূর্যোদয়ের পর এবং চতুর্দশী তিথি থাকাকালীন ব্রত সম্পন্ন করা উচিত। কেউ কেউ আবার তিথি শেষ হওয়ার পর ব্রতভঙ্গ করাকে অগ্রাধিকার দেন।
শিবের আরাধনায় শুদ্ধ চিত্তে এই নিয়মগুলি পালন করলে ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন ভোলেনাথ।