চেনাব নদীর বুকে ভারতের ‘মাস্টারস্ট্রোক’! আতঙ্কিত পাকিস্তানের তড়িঘড়ি চিঠি ভারতকে, ঘনিয়ে আসছে জল-যুদ্ধ?

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে সিন্ধু নদের জল বণ্টন নিয়ে। চেনাব নদীর উপর ভারতের প্রস্তাবিত সাওয়ালকোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের (Sawalkot Hydroelectric Project) কাজ শুরু হতেই তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে পাকিস্তানে। ভারতের এই সাহসী পদক্ষেপের পর তড়িঘড়ি দিল্লির কাছে আলোচনার প্রস্তাব ও তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠাল ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের উদ্বেগ ও চিঠির বয়ান
বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি জানিয়েছেন, ১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তির (Indus Waters Treaty) নিয়ম মেনে তাঁরা ভারতীয় সিন্ধু জল কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন। সাওয়ালকোট প্রকল্পের কারিগরি তথ্য এবং পরামর্শ চাওয়া হয়েছে এই চিঠিতে। আন্দ্রাবির দাবি, গত বছরের জুলাই মাস থেকেই পাকিস্তান এই বিষয়ে সরব হলেও ভারতের তরফে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি।

কেন ভয়ে কাঁপছে পাকিস্তান?
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের কড়া অবস্থানে কার্যত দিশেহারা পাকিস্তান। ভারত ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে যে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত বা পর্যালোচনা করা হতে পারে। সাওয়ালকোটের মতো বড় প্রকল্প চেনাব নদীর ওপর তৈরি হলে নদীর জলের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে আরও মজবুত হবে।

শান্তির আবেদন: যে পাকিস্তান বারবার প্রচ্ছন্ন হুমকি দেয়, সেই আন্দ্রাবিই এখন বলছেন, “পাকিস্তান আলোচনার মাধ্যমে এবং আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় সব বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়।”

ভারতের কড়া বার্তা: ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না। সিন্ধু জল চুক্তির বাধ্যবাধকতা পালন নিয়ে পাকিস্তান এখন ভারতকে যে ‘আইনি বাস্তবতা’ মনে করাচ্ছে, তা ভারতের রণকৌশলের কাছে একপ্রকার নতিস্বীকার বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ক্রিকেট ও মানচিত্র বিতর্ক
কেবল জল নয়, পাকিস্তান এখন সব দিক থেকেই কোণঠাসা। আন্দ্রাবি ক্রিকেটের রাজনীতিকরণ নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্রে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরকে (PoK) ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। পাকিস্তান দাবি করেছে, তাদের আপত্তিতেই আমেরিকা সেই মানচিত্র সরিয়ে নিয়েছে, যদিও কূটনৈতিক মহলে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে ইসলামাবাদ।

সাওয়ালকোট প্রকল্প কী?
এটি জম্মু ও কাশ্মীরের চেনাব নদীর ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনই উপত্যকায় উন্নয়নের জোয়ার আসবে— যা পাকিস্তানের কাছে এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ।