বিপদ সংকেত! আগামী ১৮ মাসেই কি গণছাঁটাই আইটি সেক্টরে? ‘হোয়াইট কলার’ চাকরি নিয়ে হাড়হিম করা দাবি

লাখ টাকার মাইনে, চকচকে অফিস আর হাই-প্রোফাইল লাইফস্টাইল— এতদিন ‘হোয়াইট কলার’ জব ছিল মধ্যবিত্তের সাফল্যের মাপকাঠি। কিন্তু সেই সাফল্যের আকাশে এখন জমাট বাঁধছে আশঙ্কার মেঘ। সৌজন্যে— আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)। মাইক্রোসফট এআই-এর প্রধান মুস্তাফা সুলেমান এক চাঞ্চল্যকর দাবিতে জানিয়েছেন, আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে বেশিরভাগ হোয়াইট কলার চাকরিই বিপন্ন হতে চলেছে।

কেন বিপদে ১৩ লক্ষ ভারতীয় আইটি কর্মী?
ভারতের আইটি জগতের চার স্তম্ভ— টিসিএস, ইনফোসিস, উইপ্রো এবং এইচসিএল টেক। এই চার সংস্থায় কাজ করেন প্রায় ১৩ লক্ষেরও বেশি মানুষ। এইচএসবিসি (HSBC)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, এই কর্মীদের একটি বড় অংশ মূলত রিপোর্টিং, ডেটা অ্যানালাইসিস এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের মতো কাজ করেন। মুস্তাফা সুলেমানের মতে, এই ধরনের কাজগুলো এখন মানুষের চেয়ে এআই অনেক বেশি নিখুঁতভাবে করতে সক্ষম।

এআই এখন কেবল পরামর্শদাতা নয়, নিজেই ‘বস’!
প্রযুক্তি এখন আর কেবল নির্দেশ পালন করে থেমে নেই। অ্যানথ্রপিক-এর মতো কোম্পানিগুলো এমন এন্টারপ্রাইজ এআই টুল তৈরি করেছে যা:

আইনি নথিপত্র পর্যালোচনা: মুহূর্তের মধ্যে কয়েক হাজার পাতার নথি স্ক্যান করতে পারে।

বিজনেস ওয়ার্ক-ফ্লো: গোটা ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া একা সামলাতে পারে।

ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন: এসকিউএল রিপোর্টিং থেকে জটিল ডেটা গ্রাফ তৈরি— সবটাই হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে।

মাইক্রোসফটের গোপন চাল: ‘পেশাদার এজিআই’
মাইক্রোসফট বর্তমানে “পেশাদার-গ্রেড AGI” (Artificial General Intelligence) নিয়ে কাজ করছে। এটি এমন এক প্রযুক্তি যা মানুষের মতোই কম্পিউটারের যেকোনো পেশাদার কাজ সামলাতে সক্ষম। কোম্পানিগুলো এখন ধীরে ধীরে মানুষের পরিবর্তে সরাসরি এআই মডেলের ওপর নির্ভর করার পরিকল্পনা করছে, যাতে খরচ কমানো যায় কয়েক গুণ।

আশার আলো কি একেবারেই নেই?
এইচএসবিসি রিপোর্টে ভয়ের পাশাপাশি স্বস্তির খবরও আছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এআই সব কাজ কেড়ে নেবে না। তবে কাজের ধরন বদলে যাবে।

কারা সুরক্ষিত? > যেসব কাজে সৃজনশীল চিন্তাভাবনা (Creative Thinking), ক্লায়েন্টদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা এবং জটিল মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয়, সেখানে এআই এখনও মানুষের বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি।

উপসংহার: সময় বদলেছে। টিকে থাকতে হলে এখন কেবল ডিগ্রিতে হবে না, নিজেকে এআই-এর সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। নয়তো ১৮ মাসের সেই সময়সীমা অনেকের জন্যই কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।