বাংলাদেশের রেজাল্টের পর তুমুল গালিগালাজ পিনাকীকে, জেনেনিন কে ইনি?

বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই ওপার বাংলার রাজনীতিতে বইছে উলটপুরাণ। একদিকে তারেক রহমানের বিএনপির বিশাল জয়, অন্যদিকে কট্টরপন্থী জামায়াত-ই-ইসলামি জোটের ভরাডুবি। আর এই ফলের পরই নেটিজেনদের নিশানায় রয়েছেন এক সময়ের চর্চিত ‘অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট’ পিনাকী ভট্টাচার্য। নিজের পছন্দের দলের হার মেনে নিতে না পেরে সমাজমাধ্যমে বিতর্কিত পোস্ট করে এখন চরম ‘গালাগালি’ ও ট্রোলের শিকার হচ্ছেন তিনি।
কী লিখেছেন পিনাকী? নির্বাচনের ফল আসতেই ফ্রান্স প্রবাসী পিনাকী ভট্টাচার্য দাবি করেন, “এই বিজয় বিএনপি, ডিপ স্টেট, আওয়ামী লীগ আর ইন্ডিয়ার।” তাঁর এই অদ্ভুত তত্ত্বে চটেছেন খোদ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। অনেকের মতে, নিজের হার ঢাকতেই এখন ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজছেন তিনি।
কে এই পিনাকী ভট্টাচার্য? এপার বাংলার মানুষের কাছে খুব একটা পরিচিত না হলেও, ওপার বাংলায় পিনাকী এক অতি পরিচিত নাম।
-
পরিচয়: ১৯৬৭ সালে জন্ম নেওয়া পিনাকী পেশায় চিকিৎসক এবং লেখক (তাঁর ১৮টি বই রয়েছে)। তবে বর্তমানে তিনি ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন।
-
রাজনৈতিক ভোলবদল: এক সময় বামপন্থী আদর্শের অনুসারী হলেও বর্তমানে তিনি উগ্র ইসলামপন্থী জামায়াতের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
-
ভারতবিদ্বেষ: বাংলাদেশে ‘ইন্ডিয়া আউট’ ক্যাম্পেইন বা ভারতবিরোধী প্রচারের অন্যতম মুখ তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার থাকলেও তাঁর উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্য বারবার বিতর্কিত হয়েছেন।
আন্দোলন থেকে আত্মগোপন: ২০১৮ সালের ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের সময় প্রথমবার লাইমলাইটে আসেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের কোপে পড়ার ভয়ে দেশ ছেড়ে আত্মগোপন করেন এবং পরে ফ্রান্সে পাড়ি জমান। গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতনে ফ্রান্সে বসে উল্লাস করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।
কেন এখন জনরোষের মুখে? পিনাকীর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশে জামায়াতের উত্থান। কিন্তু ভোটে জামায়াত কার্যত ধুয়ে মুছে যাওয়ায় এবং বিএনপি ক্ষমতায় আসায় তাঁর সব সমীকরণ বদলে গেছে। সাধারণ মানুষ এখন পিনাকীকে ‘সুবিধাবাদী’ ও ‘গুজব সৃষ্টিকারী’ আখ্যা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ধুয়ে দিচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন যে, তাঁর ফেসবুকের কমেন্ট সেকশন এখন ‘খিল্লির’ বন্যায় ভাসছে।
দমে যাওয়ার পাত্র নন পিনাকীও। জামায়াতকে এখন ‘যোগ্য বিরোধী’ হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। তবে তাঁর এই ‘জ্ঞানদান’ যে সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছেন না, তা সমাজমাধ্যমের রিয়্যাকশন দেখলেই স্পষ্ট।