আজ কি শুধুই প্রেম? জানুন কেন ১৪ ফেব্রুয়ারি রক্তাক্ত হয়েছিল ইতিহাস! ভ্যালেন্টাইনস ডে-র আসল সত্যি

ঋতুরাজ বসন্তের মাতাল হাওয়া আর পলাশ-শিমুলের রক্তিম আভায় প্রকৃতি যখন সেজেছে নতুন সাজে, ঠিক তখনই হৃদয়ের কলিংবেলে কড়া নাড়ল ১৪ ফেব্রুয়ারি— বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’। আজ কেবল একটি তারিখ নয়, আজ মান-অভিমান ভুলে হৃদয়ে হৃদয়ে মিলনের এক বিশেষ মাহেন্দ্রক্ষণ।
রক্তে ভেজা ইতিহাস: কেন এই আত্মত্যাগ?
আজকের এই লাল গোলাপ আর চকোলেটের ভিড়ে অনেকেই হয়তো ভুলে গেছেন এই দিনটির পেছনের করুণ ইতিহাস। খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতাব্দীতে রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস বিশ্বাস করতেন, অবিবাহিত যুবকরাই সেরা সৈনিক হয়। তাই তিনি যুবকদের বিয়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
কিন্তু প্রেমের জয়গান গেয়েছিলেন ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। সম্রাটের অবাধ্য হয়ে তিনি গোপনে প্রেমিক-প্রেমিকাদের বিয়ের ব্যবস্থা করতেন। পরিণাম যা হওয়ার তাই হলো— সম্রাটের রোষানলে পড়ে তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয় এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কথিত আছে, মৃত্যুর আগে কারারক্ষীর অন্ধ মেয়েকে লেখা চিঠির নিচে তিনি সই করেছিলেন— ‘ফ্রম ইয়োর ভ্যালেন্টাইন’। সেই থেকেই ভালোবাসার জন্য এই মহান আত্মত্যাগের স্মৃতিতে পালিত হয়ে আসছে দিনটি।
সাত দিনের অপেক্ষা, অবশেষে আজ সেই ‘মহা দিন’
আধুনিক যুগে ভালোবাসা কেবল একদিনে সীমাবদ্ধ নেই। ৭ ফেব্রুয়ারি ‘রোজ ডে’ দিয়ে শুরু হওয়া ‘ভ্যালেন্টাইনস উইক’ বা ভালোবাসার সপ্তাহের আজই চূড়ান্ত পরিণতি। প্রপোজ ডে, চকোলেট ডে, টেডি ডে, প্রমিজ ডে, হাগ ডে এবং কিস ডে-র সিঁড়ি টপকে আজ সেই কাঙ্ক্ষিত ১৪ ফেব্রুয়ারি।
বদলেছে সংজ্ঞা: ভালোবাসা এখন সর্বজনীন
সময়ের সাথে সাথে ভালোবাসার সংজ্ঞায় এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। আজ এই দিনটি কেবল যুগলদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ডিজিটাল যুগে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের ওয়ালে এখন কেবল প্রেমিকের ছবি নয়, বরং বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা প্রিয় বন্ধুর সাথে কাটানো মুহূর্তগুলোও জায়গা করে নিচ্ছে।
সম্পাদকের কথা: > ভালোবাসার নির্দিষ্ট কোনো দিন হয় না ঠিকই, তবে এই বিশেষ দিনটি আমাদের শেখায় ঘৃণা ও বিদ্বেষ ভুলে একে অপরকে সম্মান করতে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর সহমর্মিতাই হোক ২০২৬ সালের ভ্যালেন্টাইনস ডে-র মূল সুর।