পুরভোটের আগে ‘সাফাই’ বাজেট ফিরহাদের! তিলোত্তমাকে দূষণমুক্ত করতে জঞ্জাল অপসারণেই রেকর্ড বরাদ্দ

সামনেই কলকাতা কর্পোরেশনের নির্বাচন। তার আগে বর্তমান বোর্ডের শেষ বাজেটে শহরকে পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত রাখাকেই পাখির চোখ করলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এই বাজেটে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জঞ্জাল সাফাই এবং পানীয় জল সরবরাহ পরিষেবায়।

বাজেটের মূল হাইলাইটস: চলতি বছর শেষে পুরভোট হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তার আগে পেশ করা এই বাজেটে কোনো নতুন কর বসাননি মেয়র। উল্টে সম্পত্তি কর মূল্যায়ন থেকে আয় বেড়েছে বলে দাবি তাঁর।

  • সাফাই খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ: শহরকে জঞ্জালমুক্ত করতে জঞ্জাল অপসারণ বিভাগে ৬৯০ কোটি ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মেয়রের দাবি, শহরের দূষণ কমাতেই এই খাতে বিপুল খরচ করা হবে।

  • পানীয় জল ও নিকাশি: দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পানীয় জল সরবরাহ বিভাগে, যার পরিমাণ ৪৫৬ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকা। নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির জন্য রাখা হয়েছে ৩৫৩ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা

  • রাস্তা সংস্কার: শহরের রাস্তা মেরামত ও নতুন রাস্তা তৈরির জন্য বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। মোট বরাদ্দ হয়েছে ৩৩৪ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা

ঘাটতি ও আয়: মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান, বাজেটের ঘাটতির পরিমাণ ১১৪ কোটি থেকে কমে ১১১ কোটি টাকায় এসে ঠেকেছে। নতুন পে কমিশনের ফলে কোষাগারে বাড়তি চাপ থাকলেও, সরকারি অনুদান এবং সম্পত্তি করের আয়ে বাজেট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়াও ৩৫০ কোটি টাকা ‘সাসপেন্স’ খাতে রাখা হয়েছে আপদকালীন ব্যবহারের জন্য।

বিরোধীদের কটাক্ষ: বাজেট পেশ হতেই আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধীরা। বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শব্দ ধার করেই এই বাজেটকে ‘হাম্পটি-ডাম্পটি’ বাজেট বলে কটাক্ষ করেছেন। অন্যদিকে, বাম কাউন্সিলর মধুছন্দা দেবের প্রশ্ন, বাজেট ঘাটতি কমানোর দাবি কি কেবল খাতায়-কলমে নাকি বাস্তবেও এর প্রতিফলন দেখা যাবে?

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে মেয়রের এই ‘পরিচ্ছন্ন কলকাতা’ কার্ড কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।